গ্রীষ্মকালের স্বভাবটি পুঁজিবাদের মতো। উভয়েই ভীষণভাবে পুরুষতান্ত্রিক। পিতৃতান্ত্রিক বলাটাও অসংগত নয়। গ্রীষ্মের মতোই পুঁজিবাদ দাম্ভিক এবং উত্তপ্ত। দুয়ে মিলে ধরণিকে তপ্ত করে তুলেছে। পুঁজিবাদ জ্বালানি পোড়ায়, বরফ গলায়, সমুদ্রকে স্ফীত করে। উত্ত্যক্ত করে প্রকৃতিকে। সমুদ্র তাই ফুঁসে উঠছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস পরিণত হয়েছে নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায়। জলবায়ু বিপর্যয় সারা পৃথিবীকেই আঘাত করছে। গরিব মানুষ ও গরিব দেশেরই ভোগান্তি বেশি, তারা গরিব বলেই।
এই বিপদে বাংলাদেশের জন্য বিপদটি অধিক। আমরা গ্রীষ্মকে নানাভাবে তোয়াজ করি। তার বীরত্বের, প্রবলতার, পৌরুষের প্রশংসা শোনা যায় আমাদের শিল্প-সাহিত্যে। কিন্তু রুষ্ট গ্রীষ্ম তাতে তুষ্ট হয়নি, বরং বর্ষে বর্ষে প্রবল হয়েছে। অন্য সব ঋতুরা জব্দ হচ্ছে তার হাতে। বিশেষ রকমের বিপদটা শরৎকালেরই।
শরৎ অবশ্য টিকে থাকবে। থাকবে সে শারদীয় দুর্গোৎসবে, রইবে টিকে স্মৃতিতে, সংস্কৃতিতে, কল্পনায়। কতটা বেঁচে থাকবে সে নিয়ে ভারি সন্দেহ। কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখা চাই। তার স্বার্থে নয়, আমাদের স্বার্থে। সে জন্য দরকার পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। গ্রীষ্মের এবং পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য। পরস্পরের সহযোগী ও পরিপূরক। দাঁড়ানো দরকার পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, গ্রীষ্মকে যে তপ্ত, ভয়ংকর ও সম্প্রসারিত করে তুলছে। দাঁড়ানো চাই শরতের পক্ষে।
শরতের পক্ষে দাঁড়ানোর অর্থ হলো শরতের স্নিগ্ধতা, ভদ্রতা, প্রসন্নতা, উজ্জ্বলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। পুঁজিবাদ যে মানুষের জন্য কত বিভিন্ন ধরনের বিপদ ও ক্ষতির কারণ হতে পারে, তার প্রমাণ আজ শরতের বিপন্নতার মধ্যে দেখতে পাই। শরেক সঙ্গে নিয়ে, কার্তিক পার হয়ে আমরা অগ্রহায়ণে যাব, পৌঁছব গিয়ে আমাদের জন্য চিরকালের বান্ধব শীতের কাছে। নইলে আমরা টিকব হয়তো, কিন্তু বাঁচব না। ঘটনাটি এমনি এমনি ঘটবে না, ঘটবে সে পুঁজিবাদকে প্রতিহত করার ভেতর দিয়েই।
শরতের ওই গুণগুলোর জন্য বিপন্ন বিশ্ব আজ লড়ছে, লড়তে হবে আমাদেরও।