ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা যখন প্রচারে যাচ্ছি, অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। এত দিন পরে এসে মনে হচ্ছে, আসলেই সঠিক ছাত্ররাজনীতির চর্চাটা করছি। শ্রদ্ধা, স্নেহ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও জবাবদিহির আওতায় ছাত্ররাজনীতি করছি।’
গতকাল দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে আবিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।পরে তিনি ওই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা চালান।তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই আশা রাখছি আমরা। কিন্তু শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে জায়গাটায় আমরা কনসার্ন জানিয়ে আসছি, সেটি হচ্ছে সাইবার বুলিং। নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানিয়েছি, যদি আপনারা এই সাইটগুলো বন্ধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে গোটা জাতিকে আপনারা সেটি জানান যে আসলে সেটি আপনারা পারছেন না। কারণ ডাকসু নির্বাচন এখন আর শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নয়, গোটা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার বিষয়।’
শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা : সাদিক কায়েম
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। আমরা নির্বাচিত হলে আবাসনসংকট সমাধানে গুরুত্ব আরোপ করব। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক সমাধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে নতুন হল নির্মাণের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’ গতকাল জুমার নামাজের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলে প্রচারণাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
বাকেরকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন মাহিন
ডাকসু নির্বাচনে এনসিপির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জিএস পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন জানিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা মাহিন সরকার। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের পাশে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন তিনি।
মাহিন সরকার বলেন, ‘আমি ডাকসু নির্বাচনে এবার জিএস পদে প্রার্থী হয়েছি। এর জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, সব জায়গায় গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিদের মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হচ্ছে, আবু বাকের মজুমদার গণ-অভ্যুত্থানের একজন অগ্রসেনানী। সে যদি জিএস পদে নির্বাচিত হতে পারে, সেটি আমার বিজয় বলে সূচিত হবে। আমি আমার সমর্থন আবু বাকের মজুমদারের ওপর ব্যক্ত করছি।’
চাপ সৃষ্টি করে মাহিনকে সরানো হয়েছে : জামালুদ্দীন
মন্ত্রিপাড়া থেকে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ। গতকাল সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। জামালুদ্দীন বলেন, ‘প্যানেলে আসার আগেও দল থেকে প্রেসার দেওয়া হয় এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। শেষ পর্যন্ত এলাকায় প্রচুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলেছি, আপনি আবারও ভেবে দেখেন। তিনি হয়তো সেই চাপটুকু নিতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু মাহিন সরকার নয়, আমাদের প্যানেলের প্রার্থীদের পার্সোনাল তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র দূর থেকে করা হচ্ছে। কিন্তু এতে আমাদের মনোবল ভাঙেনি।’
বাগছাস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে : তানভীর বারী হামিম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) প্রার্থিতা থেকে সরে এসে আরেক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
হামিম বলেন, ‘যাহা জাতীয় নাগরিক পার্টি, তাহাই বাগছাস। নাগরিক পার্টির ফেসবুক পেজ দেখলেই প্রমাণ পাবেন। অথচ তারা দাবি করে, তাদের কোনো মাদার অর্গানাইজেশন নেই। শিক্ষার্থীরা এই প্রতারণার জবাব ব্যালটে দেবে।’

প্রচারপত্র বিলি করছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের (বাঁয়ে) এবং সংবাদ সম্মেলনে জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থনের কথা জানান মাহিন সরকার।