মোট অভ্যন্তরীণ উপাদানের (জিডিপি) ক্ষেত্রে কৃষি খাতের দৃশ্যমান যে অবদান, এ খাতের ওপর সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতির প্রকৃত নির্ভরতা তারচেয়ে অনেক বেশি। এখনো এ খাতই দেশের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। জাতীয় অর্থনীতি যখন বড় ধরনের বিপদে পড়ে, তখন এই কৃষিই দেশকে রক্ষা করে, যেমনটি করেছিল ২০০৭-০৮-এর বিশ্বমন্দার সময়। অতএব সার্বিক বিবেচনায় কৃষিঋণের শতভাগ প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানোটা শুধু জরুরিই নয়, একটি জাতীয় অগ্রাধিকারও বটে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের অগ্রাধিকারে কৃষিঋণ কখনোই প্রথম সারিতে ছিল না, এখনো নেই এবং তা শিগগিরই হবে, তেমন লক্ষণও চোখে পড়ছে না।
এই সূত্রে পরিশেষে আরেকটি প্রস্তাব যোগ করি। কৃষি খাতে বিনিয়োগকে এখনো আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে আগ্রহোদ্দীপক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। স্টার্টআপ কার্যক্রমকে উৎসাহদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৯০০ কোটি টাকার নয়া তহবিল ঘোষণা করেছে, সেখানে তরুণদের কৃষি খাতে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে না কেন? কেন মনে করা হচ্ছে, উদ্ভাবনাধর্মী সম্ভাবনাময় প্রকল্প কেবল শহরেই পাওয়া যায়? কৃষিঋণের শতভাগ প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হলে এ ধরনের শহরমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে, তার পুরোটা না হোক, অন্তত ৯০ শতাংশও যদি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তাহলে সেটাই হবে অনেক বড় অগ্রগতি।