সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সুপ্রিম কোর্টে সচিবালয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে পুনর্বহাল করা হয়েছে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। গত মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

এই রায়ের ফলে অর্ধশতাব্দী পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ (নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও ছুটি) এবং শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা ফিরল সুপ্রিম কোর্টের হাতে। 

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাতে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীতে এই ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়, যা আইন মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হতো। চতুর্থ সংশোধনীর পর ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, রাষ্ট্রপতি ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে’ এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

পরে ১৯৮৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে আবার পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে’ অংশটি বাদ দিয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতা পুরোপুরি রাষ্ট্রপতির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব সংশোধনীর অধীনে ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন করে। এসব সংশোধনী ও বিধিমালার কারণে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
চতুর্থ ও পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের পরিবর্তিত ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিট করেন।প্রদত্ত রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ পর্যন্ত যত সংশোধনী আনা হয়েছে, যে বিধিমালা করা হয়েছে, তা অবৈধ ও অসাংবিধানিক উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধান সাধারণ কোনো আইন নয়। সংবিধানের কোনো বিধানকে যখন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়, তখন পূর্ববর্তী বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত বা পুনর্বহাল হয়ে যায়।সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেন, জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্র সচিবালয় রয়েছে।কিন্তু বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয়ের কথা সংবিধান এবং মাসদার হোসেন মামলার রায়ে উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত হয়নি। আমরা মনে করি, স্বতন্ত্র সচিবালয় না করা সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, আদালতের এই রায়ের ফলে বিচার বিভাগ ১৯৭২ সালের অবস্থায় ফিরে গেল। এখন সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট একচ্ছত্রভাবে অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণ করবেন। এটি অবশ্যই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য একটি মাইলফলক।

আমরা মনে করি, দেশে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের যে ক্ষতিকর প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, এই রায়ের ফলে তার অবসান হবে। আমরা আশা করি, তিন মাসের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com