জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ইসলামিক জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মূল্যবান কোরআন সংগ্রহ। প্রায় ৬০০টি দুর্লভ ঐতিহাসিক কোরআনের কপি এখানে সংরক্ষিত আছে, যা উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগ থেকে শুরু করে ফাতেমীয়, আইয়ুবী এবং মামলুক শাসনামল পর্যন্ত ইসলামের ধারাবাহিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। এই অনন্য সংগ্রহের বেশির ভাগ কপি এসেছে খলিফা, সুলতান, রাজপুত্র ও বিশিষ্ট আলেমদের পক্ষ থেকে উপহার ও পবিত্র দান হিসেবে। প্রতিটি কপি আল-আকসা মসজিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক মহিমার জীবন্ত প্রমাণ বহন করে।পাণ্ডুলিপিগুলো লিপি, অলংকরণ ও আকারে ভিন্নতা প্রকাশ করে। কুফিক, মাগরেবি, নাসখ, সুলুথ ও ফার্সি লিপিতে লেখা এসব কোরআন শিল্পকলা ও ইতিহাসে অনন্য বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে। ফলে সংগ্রহটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বেই নয়, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক মূল্যেও অতুলনীয়। জাদুঘরে সংরক্ষিত কিছু কপি বিশেষভাবে ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক গুরুত্ব বহন করে।এর মধ্যে আছে সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের রুবা, অটোমান সুলতান বায়েজিদের রুবা, মামলুক সুলতান বারসবাইয়ের এক বিশাল আকারের কোরআন এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর এক পৌত্রের হাতে লেখা একটি কপি। জাদুঘরে আরো সংরক্ষিত আছে অষ্টম বা নবম শতাব্দীর কুফিক লিপিতে লেখা একটি কোরআন এবং মরক্কোর সুলতান আবু হাসান মারিনি কর্তৃক ১৩ শতকে দান করা ৩০ খণ্ডের রুবা আল-মাগরিবি। মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমে দান করা এই ধরনের তিনটি কপির মধ্যে এটিই একমাত্র টিকে থাকা নিদর্শন। বিরল সংগ্রহের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি বিশাল আকারের কোরআন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিটার এবং প্রস্থ ৯০ সেন্টিমিটার।১৪ শতাব্দীর এই অনন্য কপি ইসলামী সভ্যতায় ক্যালিগ্রাফি ও বাঁধাই শিল্পের জাঁকজমকপূর্ণ উৎকর্ষের উজ্জ্বল প্রমাণ বহন করে।