মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আয়না ঘরে’ কেটেছে আমার ৬১ দিন :সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমাকে ৬১ দিন ধরে একটি গোপন ও অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, যা পরিচিতি পেয়েছে ‘আয়না ঘর’ নামে। ওই ঘরে কোনো আয়না না থাকলেও ছিল মৃত্যু ও যমদূতের মতো এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে ‘রিপ্রেশন টু রেভুলুশন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে সেই ৬১ দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে একটি গুপ্ত গুহায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে একজন মানুষের পক্ষে বসবাস করা অসম্ভব। রুমটি ছিল প্রায় ৫ ফুট বাই ১০ ফুট। এটি ছিল একটি নোংরা স্থান, যেখানে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ও পানির জন্য একটিমাত্র ট্যাপ ছিল। তিনি বলেন, বিচ্ছু আসতো… দুর্গন্ধ আসতো। একটি পাতলা কম্বল ও বালিশ দেওয়া হয়েছিল, যার নিচে প্রায়ই কালো বিচ্ছু পিঠের ওপর নড়াচড়া করত। খাবার দেওয়ার সময় ছাড়া অন্য সব সময় রুমের বাইরে একটি ফ্যান চলত।বিএনপির এই নেতা বলেন, জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম এবং বারবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, যদি মৃত্যু হয়, তবে যেন আমার লাশটি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্য এবং নূর খান লিটনের নেতৃত্বাধীন গুম কমিশনের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৮৫০ জনের বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ২৬৯৩ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাই আমি সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।আগামীতে জনগণ যদি ম্যান্ডেট দেয়, তাহলে বিএনপি গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের আহ্বান জানাবো-বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন।সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ধোঁয়াশার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর সংগ্রামের পর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এবং একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠিত হবে। এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে অতীতের ফ্যাসিবাদী অপসংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার সারা হোসেন বলেন, বিনা বিচারে মাসের পর মাস লোকজনকে আটকে রাখবেন না। মধ্যরাতে লোকজনকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাবেন না বিনা কারণে। এই অঙ্গীকারগুলো আপনারা করুন। তাহলেই আমরা বিশ্বাস করব, পরিবর্তন আসবে। গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি দল বা মতাদর্শের মানুষ নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ। সেমিনারে রাজনীতিবিদেরাও এসেছেন। আমরা তাঁদের কাছ থেকে এই অঙ্গীকার পেতে চাই যে তারা আমাদের একটি ভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ দেখাবেন, যেখানে তারা গুম-খুন করবেন না। পাশাপাশি কোনো ধরনের মিথ্যা মামলা দেবেন না। রাজনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিনা বিচারে মাসের পর মাস লোকজনকে আটকে রাখবেন না এবং তারা মধ্যরাতে লোকজনকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাবেন না বিনা কারণে। এই অঙ্গীকারগুলো আপনারা করুন। তাহলেই আমরা বিশ্বাস করব যে, পরিবর্তন আসবে।সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করব। একই সঙ্গে গুম ও শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াব।ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের সিনিয়র মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান গুমের শিকার পরিবারের চলমান ভোগান্তি নিরসনে সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার মৃত্যু সনদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা উচিত, কারণ এসব মামলায় ভুক্তভোগীদের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। নতুন খসড়া অধ্যাদেশে গুমের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী হয়নি। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধ করার পরিবর্তে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কেবল সর্বোচ্চ শাস্তি (যেমন মৃত্যুদ-) নির্ধারণ করলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না; বরং একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের সিনিয়র মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান, মানবাধিকারকর্মী ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহসভাপতি তানিয়া রব, গুমের শিকার বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর, বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার, আমার এবি পার্টির সহকারী সদস্যসচিব নাসরীন সুলতানা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ, এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত প্রমুখ।সেমিনার প্রাঙ্গণে ‘আয়নাঘর এর কুশীলবদের গ্রেপ্তার চাই’, ‘খুনির ঠিকানা সেনানিবাস, বিচারহীন রাষ্ট্র নিশ্বাস’, ‘প্রশ্ন একটাই খুনি কেন আজও মুক্ত’, ‘আগস্টের পর খুনি কীভাবে বর্ডার পার’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা দেয়। সেমিনারে মধ্যভাগে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com