“আমাকে ৬১ দিন ধরে একটি গোপন ও অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, যা পরিচিতি পেয়েছে ‘আয়না ঘর’ নামে। ওই ঘরে কোনো আয়না না থাকলেও ছিল মৃত্যু ও যমদূতের মতো এক ভয়ংকর পরিবেশ।” গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রাক্কালে গতকাল বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘রিপ্রেশন টু রেভ্যলুশন : এক্সপোজিং সিস্টেমেটিক হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস বাই দ্য স্টেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজন করে মায়ের ডাক।সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সালাউদ্দিন আহমদ। গুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে চোখ বেঁধে একটি গুপ্ত গুহায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে একজন মানুষের পক্ষে বসবাস করা অসম্ভব। রুমটি ছিল প্রায় ৫ ফুট বাই ১০ ফুট। এটি ছিল একটি নোংরা স্থান, যেখানে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ও পানির জন্য একটি মাত্র ট্যাপ ছিল।আগামী দিনে জনগণ যদি ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করে, তাহলে বিএনপি গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করবে বলেও জানান সালাউদ্দিন আহমদ।অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম কমিশনের সদস্য এবং মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনে এখন পর্যন্ত এক হাজার আট শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে গুমের শিকার হওয়া প্রায় ৩০০ জনের কোনো হদিস নেই এখনো। গুমের নির্দেশদাতা ও যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেককেই চিহ্নিত করা গেছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেবে গুম কমিশন।অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, এখন একটা নতুন আইন (গুম প্রতিরোধে) তৈরি হচ্ছে। সেটা আরেকটি পথ তৈরি করে দেবে। আশা করছি, এই আইনে বিচারের পাশাপাশি জবাবদিহি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। এই আইন তৈরির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদেরও মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন সারা হোসেন।ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান গুম নিয়ে নতুন আইন তৈরির প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেও এর খসড়া নিয়ে কিছু গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।