সরকারকে অত্যাবশ্যকীয় (জীবন রক্ষাকারী) সব ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্ধারিত দাম যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ করতেও বলা হয়েছে।সাত বছর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই রায় দেন। রায়ে ১১৭টি ওষুধ বাদে বাকি সব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ওষুধ কম্পানির হাতে ছেড়ে দিয়ে ১৯৯৪ সালে জারি করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।ফলে এখন থেকে এসব ওষুধের দাম সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে।রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং ওষুধ মালিক সমিতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস কে মোরশেদ।১৯৮২ সালের ঔষধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ছিল।সে অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে সরকার ৭৩৯টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণ করে। তবে ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের মাধ্যমে ১১৭টি ছাড়া বাকি সব ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হয় ওষুধ শিল্প মালিকদের হাতে।এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করে এইচআরপিবি। একই দিন আদালত রুল জারি করেন এবং পরিপত্রটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান।আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৯৪ সালের ওই পরিপত্রের ফলে ওষুধ কম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে আসছিল, যা নাগরিকদের বেঁচে থাকার অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। আদালতের রায়ে ওই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অত্যাবশ্যকীয় সব ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।’এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধসহ সব ধরনের ওষুধের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘১৯৯৪ সালের পরিপত্র অনুসারে ওষুধ কম্পানিগুলো ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই দাম নির্ধারণ করছিল।এখন সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’জনমত জরিপেও এসেছে, নাগরিকদের বেশির ভাগই ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের হস্তক্ষেপ চায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত ফেব্রুয়ারিতে একটি জরিপে দেখেছে, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সব ধরনের ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করুক—এমন মত দিয়েছেন ৯৭.৪ শতাংশ মানুষ।এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ও দাম নির্ধারণে ১৮ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। টাস্কফোর্সের কাজের মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ওষুধের দাম নির্ধারণ ও অন্যান্য ওষুধের জন্য একটি সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন।
একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন ২০ আগস্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তা প্রস্তুত না হওয়ায় আরো দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে।