অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তি পরিচিতি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্য ও বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন প্রেস সচিব। ডেইলি স্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালিসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (রেইন)।শফিকুল আলম বলেন, ‘মার্কিন পাল্টা শুল্ক নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা হয়েছে।অনেক বুদ্ধিমান মানুষও এতে যুক্ত ছিলেন। গোলটেবিল বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে যা তা বলা হয়েছে। তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয়ের জন্য লাভজনক চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি।’প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তি পরিচিতি থাকায় শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এখন শুল্ক আরো কমানোর চেষ্টা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামনে সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। সেখানে রপ্তানি আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল কনসেনসাস হচ্ছে এক্সপোর্ট লিড ইকোনমি করতে চাইলে প্রথমে লজিস্টিকস সম্পর্কিত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, এগুলো সমাধান করতে হবে। আর লজিস্টিকের মেইন চ্যালেঞ্জই হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন করা যায়নি। আমরা যে জায়গায় যেতে চাচ্ছি, সেই জায়গায় যায়নি। যখনই চট্টগ্রাম বন্দর সক্ষম হবে, তখন বৈদেশিক বিনিয়োগ আটকে রাখা যাবে না। বৈদেশিক বিনিয়োগের আলোচনায় কর ব্যবস্থার কথা আসছে, রেগুলেটরি ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে আমরা চীন বা জাতিসংঘে যেখানেই গেছি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার কথা উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দর বিদেশিরা এক্সপার্টরা চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে কিছু লোক বনসাই করে রাখতে চায়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করাতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতেই হবে।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ব্যাংকগুলোকে পাইকারি হারে (হোলসেল) চুরি করেছিল। অন্যান্য ক্ষেত্রে লুটপাটের মূল বন্দোবস্ত ছিল এনার্জি বা পাওয়ার সেক্টরে। পুরো এনার্জি সেক্টরে যে ট্যারিফ নিয়ে আসা হলো, এটা প্রাইভেট সেক্টরের জন্য এখন ঝামেলা। যেকোনো সরকার দায়িত্বে এসে কাঠামোগত কাজ করে বিদ্যুতের দাম একটা জায়গায় নিয়ে আসা খুবই দরকার। অনেকে বলছে, এখানে এনার্জির দাম অনেক বেশি, এখানে বিনিয়োগ করব কেন? এখানে তো শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখে না, প্রাইস রেটিংগুলোও দেখে। এই জায়গায় বর্তমান সরকার কাজ করছে।
একটি অভ্যুত্থানের পর ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির জন্য যা কিছু করেছে, এটা যথেষ্ট। সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়েছে, রিজার্ভ বাড়িয়েছে এবং সবচেয়ে বড় কাজটি হয়েছে অর্থনীতির। অভ্যুত্থানের পর এটা কোনো দেশে সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের আগেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা যেত। তাহলে সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে আসত। আরএলডিসি উত্তরণ নিয়ে সরকারের পরিষ্কার অবস্থান জানানো উচিত।
রুবাইয়াৎ সারোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, জিয়া হাসান, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ইস্রাফিল খসরু, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাডমাস গ্রুপের পরিচালক শামারুখ মহিউদ্দিনসহ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন।