‘সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনৈতিক চাপ এলে আমি পদত্যাগ করব’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া তিনি বলেছেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সংবিধানে নেই। এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।’ আর নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, সেনাবাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি।গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে মতিবিনিময়সভা শুরুর আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন হবে কি হবে না, এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতর আমরা যেতে চাই না। প্রধান উপদেষ্টার কথা অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যেতে চাই। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে যাতে নির্বাচন হয় তার জোর প্রস্তুতি চলছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ। ভোটের জন্য কেনাকাটা এগিয়ে চলছে। সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছি।
যেসব কর্মকর্তা আগের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে সহায়তা করেছিলেন তাঁদের কী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে পাঁচ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা রয়েছেন। এঁদের কোথায় পাঠাব? যাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিগত নির্বাচনে অনিয়ম করেছিলেন, সেসব নির্বাচন কর্মকর্তাকে এবারের নির্বাচনে রাখা হবে না।সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ দেয়নি, আমাকে চাপ দিলে আমি পদত্যাগ করব, চেয়ারে থাকব না। আমাদের বলতে তো দ্বিধা নেই। যেদিন সরকার চাইবে সেদিন নাসির উদ্দিন এই চেয়ারে থাকবে না। যেদিন সরকার চাইবে তার মতো করে কাজ করতে হবে, সেদিন আমাকে এই চেয়ারে দেখবেন না। সেই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।’
সিইসি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানের জন্য আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা সর্বশক্তি দিয়ে পূরণ করব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হয় সেটি প্রতিরোধ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বিষয় এলে তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস না করে ফ্যাক্ট চেকিং করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা ১৮ কোটি জনগণের পক্ষে ও ভোটারদের পক্ষে। আমরা কারো কোনো অন্যায় আবদার শুনব না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব।’ সেই নির্দেশনা অফিসারদের দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘যাঁরা অস্ত্রবাজি করে ভোটে জিততে চাইবেন তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলবে। রোডম্যাপ দ্রুতই ঘোষণা করা হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সবাই দেশের মঙ্গল চায়। তারা দেশের জন্যই রাজনীতি করে।’সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তারা রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না। বিচারের রায় আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। রায় কী আসে সেটি দেখতে হবে। তারপর বলা যাবে আওয়ামী লীগ ভোটে থাকতে পারবে কি না।’মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।