পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে যেন আমরা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য আমদানি করতে পারি, সে লক্ষ্যেই এ কমিশন গঠন করা হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।খাদ্য ও কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি কিছু মধ্যবর্তী পণ্য যৌথভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আনারস রপ্তানির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে, আর পাকিস্তানের সহযোগিতায় দেশে চিনির উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আমদানির ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি। তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবে বলে জানিয়েছে।আমরা পাকিস্তানের বাজারে এক কোটি কেজি চা শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানির প্রস্তাবও দিয়েছি।’তিনি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের পুনর্গঠন, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠন। যদিও আগে থেকেই জয়েন্ট ট্রেড কমিশন ছিল, তবে কার্যক্রম ছিল সীমিত।এখন তা আরো সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে।পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে ভারতের সঙ্গে বৈরিতা বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার দায়িত্ব দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করুন। এটা আমার কনসার্ন নয়। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করছি।মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের পাওনা বা দেনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা বাণিজ্যিক আলোচনার বিষয় নয় এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সবার দিকেই ঝুঁকছি—পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত; যেখানে দেশের স্বার্থ আছে, সেখানেই ঝুঁকছি। ভারতের কাছ থেকেও তো আমরা পেঁয়াজ আনছি।’








