ড. সিরাজুল হক কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্নভাবে সম্মানিত হয়েছেন। যেমন—
১. ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘সিতারায়ে ইমতিয়াজ’ খেতাব দেয়।
২. ১৯৮৬ সালের ২৬ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ১৯৮৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
৩. ১৯৯৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
ড. হক দেশ-বিদেশে বহু সভা-সেমিনার ও কনফারেন্সে যোগ দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে—
১. ১৯৩৬ সালে জার্মানির ‘বন’ শহরে International Oriental Conference অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে ড. সিরাজুল হক অংশ নেন।
২. ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৫৩ সালে নাওয়ারা ইলিয়া, সিলনে (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) অনুষ্ঠিত Contribution of Modern Languages towards living in a world Community শীর্ষক সেমিনারে ড. সিরাজুল হক পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে অংশ নেন এবং The Teaching of Arabic in Pakistan শিরোনামে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন।
৩. ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ‘উলামা ডেলিগেট’ হিসেবে মাসব্যাপী এক সফরে চীন গমন করেন। এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল চীনের মুসলমানদের অবস্থা স্টাডি করা এবং সেখানকার মসজিদগুলো পরিদর্শন করা।
ড. সিরাজুল হক গবেষণা কার্যক্রমেও অসামান্য অবদান রেখেছেন। মৌলিক ও অনূদিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচ এবং মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ২০-এর অধিক।
বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার সোবহানবাগ কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কন্যা মাহযূযা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।