সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ক্রিকেটে মানুষ দেখতে চায় জনপ্রত্যাশার সুস্পষ্ট ও সর্বোচ্চ প্রকাশ ইকরামউজ্জমান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
ক্রিকেটের কিছু কর্মকর্তা নিজের ভাবমূর্তি যেভাবে বাজারে প্রচার করতে পারেন—সেটি খুব কম কর্মকর্তাই পারেন। লক্ষ করি, তাঁরা নিজকে শক্তিশালী এবং আত্মপ্রত্যয়ী একজন হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁরা ক্রিকেটের সাফল্য নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করেন, আবার যখন পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন পূর্বসূরিদের দোষারোপ করেন। কে ক্রিকেটের বন্ধু আর কে শত্রু, এটি নিয়ে শুরু করা হয় বাহাস।

ক্রিকেটে প্রয়োজন প্রগতিশীল সংস্কার। প্রয়োজন গঠনতন্ত্রে জরুরি সংশোধন, যাতে মতলববাজ ও সুবিধাবাদীরা সুযোগ নিতে না পারে।বিশ্বাস করি, গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষের সমর্থন থাকবে। ক্রিকেটে এক ধরনের কৌশলী অস্পষ্টতা আছে। আর এই অস্পষ্টতা দেশজুড়ে খেলার বিকাশে এখন অন্যতম অন্তরায়ের একটি। ক্রিকেটে তো সবাই চায় জনগণের ইচ্ছার একটি সুস্পষ্ট ও সর্বোচ্চ প্রকাশ।একে অপরকে দোষারোপ করা, সব সময় বিরুদ্ধাচরণ সমস্যার সমাধান নয়।এক দল অতীতের সবকিছুতেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে। অতীতের সবকিছুই যে খারাপ ছিল, তা কিন্তু নয়। চাটুকাররা তো ব্যক্তিস্বার্থে সব সময় তৎপর। ক্রিকেটে একটি প্রশ্ন সব সময় উচ্চারিত হয় আর সেটি হলো, লাইনচ্যুত খেলাটি কখন লাইনে উঠতে পারবে। ক্রিকেটে কথা আর ‘নসিয়তের’ শেষ নেই। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে ফারাক অনেক। ক্রিকেটে মানুষ দেখতে চায় দৃশ্যমান অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক কাজ। মাঠের ক্রিকেট থেকে বাইরের ক্রিকেটের আলোচনা যখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ পেতে শুরু করেছে, তখন থেকে দেশের ক্রিকেটের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে।খেলা থেকে কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং পদে পদে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক দুর্বলতা, ব্যর্থতা এবং ডিগবাজি প্রকটভাবে লক্ষণীয় হচ্ছে। ক্রিকেটের সাংগঠনিক কার্যক্রম ভুগছে আস্থাহীনতায়। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি গ্রাফ এখন নিম্নমুখী।

ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি হলো তরুণসমাজ। তারা আগের যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী, চিন্তাশীল, বুদ্ধিমান, সচেতন এবং ইতিবাচক। পাশাপাশি অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষীও। তাদের ‘নয়ছয় বুঝিয়ে’ পার পাওয়ার দিন আর নেই। তাদের বুঝতে হবে। বুঝতে হবে তাদের চাহিদা। ক্রিকেটে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহি নেই বলেই খেলাটি যে অবস্থায় থাকার কথা ছিল, সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বলা মুশকিল আগামী দিনগুলোতে মর্যাদাশীল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ‘স্ট্যাটাস’ কী হতে যাচ্ছে।

ক্রিকেটে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক, পছন্দনীয়, অপছন্দনীয় এবং পক্ষপাতদুষ্টতায় ঠাসা। আর নাগরিক সমাজ তো অন্য ক্ষেত্রে মহাব্যস্ত। তাদের অনেকের কাছে ক্রিকেট তো নেহাত একটি খেলা।

ক্রিকেটে মানুষ দেখতে চায় জনপ্রত্যাশার সুস্পষ্ট ও সর্বোচ্চ প্রকাশ

ক্রিকেট চর্চা বা খেলা তো একদিন বা কয়েক দিনের বিষয় নয়। এটি সারা জীবনের খেলা। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাঙালির জীবন। তাদের আবেগ, সুখ ও দুঃখ। মানুষ যে ক্রিকেটারদের পেছনে ভালো এবং খারাপ উভয় সময় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, এটি অনেক বড় বিষয়। দুঃখ হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই ইতিবাচক শক্তি এবং প্রেরণাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। পারেনি এতগুলো বছরেও দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে একটি সহনীয় অবস্থায় নিয়ে যেতে। ওয়ানডে সংস্করণ ছিল বাংলাদেশ দলের শক্তির জায়গা। বিশ্ব ক্রিকেটেও তো কয়েক বছর আগে টিম বাংলাদেশ উল্লেখ করার মতো দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। এখন ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী? আত্মসমালোচনা এবং আত্মোপলব্ধি কোথায়? কোথায় হারানো স্থান ফিরে পাওয়ার সংকল্পবদ্ধ মানসিকতা? ক্রিকেট প্রশাসনে অস্থিতিশীলতা সব সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে! ‘টেকসই’ ভবিষ্যতের বিষয়টি সম্মিলিতভাবে খুব কমই উচ্চারিত হয়। ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত ক্রিকেটকে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। খেলাটি বের হতে পারছে না বিভ্রান্তির জাল থেকে। স্ববিরোধিতা ক্রিকেটের নৈতিক অবস্থান সব সময় বিতর্কিত করছে। ক্রিকেটে বাড়ছে বাইরের হস্তক্ষেপ।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর আসন্ন এশিয়া কাপ এবং সব শেষে আগামী বছর বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ড বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। আর এই উদ্যোগগুলোকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে। এটি উৎসাহব্যঞ্জক। যেকোনো প্রফেশনাল ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এই কাজগুলো ‘রুটিন জবের’ মধ্যেই পড়ে। যা হোক, দেরিতে হলেও ভাবা হয়েছে কাজগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব। ‘পাওয়ার হিটিংয়ে’ ঘাটতি কাটাতে কাজ করছেন কোচ জুলিয়ান উড। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক শক্তি, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিকস—এই বিষয়গুলো কারো অজানা নয়। পাওয়ার হিটিংয়ে ভালো করতে হলে লাগাতার অনুশীলনের বিকল্প নেই। পাশাপাশি মানসিক সবলতা এবং আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য ‘ফিটনেস’ অন্যতম একটি সমস্যা। স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ নাথাল কলি বলেছেন, ক্রিকেটারদের আরো বেশি অ্যাথলেটিক হতে হবে। আধুনিক ক্রিকেটে প্রথম চাহিদা হলো অ্যাথলেটিক ক্রিকেটার। কারণ হলো অ্যাথলেটিক ক্রিকেটাররা স্বাধীনভাবে ক্রিকেট খেলতে পারেন। তাঁরা ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে মনোবল ধরে রাখার পাশাপাশি মনঃসংযোগও ধরে রাখতে পারেন। ক্রিকেট বোর্ড স্পোর্টিং উইকেটের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিন সিমন্স। ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলও মিরপুর উইকেট নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিলেট স্টেডিয়ামে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ৩০ আগস্ট এবং ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর। বোর্ড চাইছে এই খেলাগুলো হোক স্পোর্টিং উইকেটে, যেখানে রান হবে এবং খেলোয়াড়রা স্বাধীনভাবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এই লক্ষ্যে বোর্ড পুরনো পরীক্ষিত বিশেষজ্ঞ পিচ কিউরেটর টনি হেমিংকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে। ছুটিতে গেছেন বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত শ্রীলঙ্কান পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। টনি হেমিং পিচ পরিদর্শনে এসে পিচের পাশে পুঁই শাকের চাষ দেখে অবাক হয়েছেন। খবরটি মিডিয়া জনসমক্ষে উত্থাপন করেছে। এই বিষয়ে গ্রাউন্ড কমিটির চেয়ারম্যানের অবশ্য কোনো বক্তব্য প্রিন্ট মিডিয়ায় আমার নজরে আসেনি। মাত্র কিছুদিন বাকি আছে সিলেটে টি-টোয়েন্টি সিরিজ গড়ানোর। সিলেটে এবার অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার সঙ্গে উইকেট তৈরির বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এত অল্প সময়ের মধ্যে ভালো স্পোর্টিং উইকেট তৈরি কি সম্ভব হবে? স্পোর্টিং উইকেট মানে চিত্তাকর্ষক ক্রিকেট।

ছয় মাস ধরে নির্বাচক কমিটি চলছে দুই সদস্য নিয়ে। তৃতীয় নির্বাচক আর মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। হান্নান সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে কোচিং পেশায় মনোনিবেশ করেছেন। বোর্ডের উচিত অবিলম্বে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। আগামী দিনে কোথায় কোথায় বিপিএল অনুষ্ঠিত হবে, সেটি নির্ধারণ করার এখতিয়ার শুধু বোর্ডের। বাইরে থেকে এই বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আইসিসি ঘুমিয়ে থাকলেও আবার অনেক সময়ই দেখতে পায়।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া

আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com