সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিপদ সীমার ওপরে তিস্তা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ভারীবর্ষণের কারণে দেশের আট জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধায় বৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া নীলফামারী, নাটোর, নওগাঁয় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমা অতিক্রম করছে পানি। এতে জমির রোপণকৃত আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে, এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা জেলার নদীসংলগ্ন এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গতকাল সকাল ৬টা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় তা কমে তা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধায় বৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৪০ মিলিমিটার। গতকাল গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টি হওয়াতে জেলার নদ-নদী পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট ১৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত এই পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব গুলো নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পাউবোর গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক মোবাইল ফোনে জানান, টানা বৃষ্টিতে জেলার করতোয়ার, তিস্তা, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আপাতত জেলা বন্যা শঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।স্টাফ রির্পোটার, রংপুর থেকে জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অব্যাহত ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সব’কটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিস্তা তিরবর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার রাত পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত মঙ্গলবার সকাল ৬টা ও ৯টায় তা ২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। দুপুরের মধ্যে আবার তা বেড়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে যায়। ফলে ইতিমধ্যে বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। পানির স্রোত ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং শক্তিশালী হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডালিয়া ব্যারাজের সবক’টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৩ দিন এই অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দিতে পারে।নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুরে পদ্মায় গত কয়েকদিনের টানা পানি বৃদ্ধিতে নদী চরাঞ্চলের প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল পানিতে ডুবে গেছে, প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১২ দশমিক ৯০ মিটার সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান আগামী দুদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সরজমিনে পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড়শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিক সহ প্রায় ১৮টি চর এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।বিলমাড়ীয়া গ্রামের মুনতাজ আলী জানান, তার ৩ বিঘা জমির চালকুমড়ার ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আরাজি বাকনাই চরের কৃষক আলাল আলী জানান তার চালকুমড়া, আখ সহ প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা জমির ফসল ডুবে গেছে। লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে লালপুরে এবার ৪৯৫ হেক্টর আখ, ১২ হেক্টর শাকসবজি এবং ১১ হেক্টর কলা সহ প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে। এদিকে বন্যায় গোখাদ্য সঙ্কটে বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের গরু মহিষ খামারিরা। ইলশামারী চরের খামারী আরিফ মন্ডল জানান, বন্যায় গরু মহিষ নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি কোথাও কোন ঘাস নেই। সব তলিয়ে গেছে।নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর আত্রাইয়ে গত কয়েক দিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে প্লাবিত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমির রোপণকৃত আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে, এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বৃষ্টিপাত থেমে গিয়ে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছুটা ক্ষতি এড়ানো যেত। তবে বর্তমানে পানি কমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই, বরং আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও ধারণা করা যাচ্ছে।আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, এ মৌসুমে আত্রাইয়ে ৬ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মনিয়ারী, বিশা, সাহাগোলা, ভোঁপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের অনেক মাঠই প্লাবিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমির আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, তিনি নিজে প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলেন, যার সবগুলোই পানিতে ডুবে গেছে। এতে তার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সাহেবগঞ্জের কৃষক মুজাম অভিযোগ করেন, কিছু জায়গায় কালভার্ট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না। ফলে অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েছেন, অথচ এ নিয়ে কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com