সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নারী ফুটবলে নতুন অধ্যায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে
নারী ফুটবলে সাফল্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল ইতিবাচক বিজ্ঞাপন। আর এই বিষয়টি ক্রীড়াপিপাসু সমাজে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। নারীরা দেশের ফুটবলে শুধু একটির পর একটি নতুন অধ্যায় রচনা করে চলেছেন তা নয়, তাঁরা বদলে দিয়েছেন খেলার গতিধারা এবং প্রেক্ষপট। অদম্য নারীরা তাঁদের সাফল্যের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে প্রমাণ করেছেন ক্রীড়াঙ্গনে দেশের সম্মানের প্রশ্নে তাঁরা অনেক বেশি দায়িত্বশীল এবং কমিটেড।তাঁরা ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার লড়াইয়ে প্রথম সারির সৈনিক!

নারী ফুটবলাররা তাঁদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শুধু বিপ্লব সাধিত করেননি— খুলে দিয়েছেন তৃতীয় নয়ন। জন্ম দিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন চেতনা। কর্তৃত্ববাদী পুরুষশাসিত ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্য, অবহেলা আর উপেক্ষার শিকার নারী ফুটবলাররা। এখন জাতির ‘ফেস লিফটার’।আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্নের প্রতীক। নারী ফুটবলাররা মনে করেন, ফুটবলের আলোর মধ্যে আছে তাঁদের মুক্তির আলো। নারীরা পেরেছেন ক্রীড়াঙ্গনের মনোজগতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে উদাহরণ সৃষ্টি করতে। পাল্টে দিয়েছেন দেশের ফুটবলের গল্পের ‘প্লট।

বাংলাদেশের ফুটবলে আমরা এবারই প্রথম সবচেয়ে সুন্দর সময় উপভোগ করছি অদম্য নারী ফুটবলারদের বদৌলতে।গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক বছরের মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য, যা আগে কখনো দেখিনি। আর এই সাফল্যের বীর হলেন আমাদের নারী ফুটবলাররা, যাঁরা শুধু দিয়েই চলেছেন দেশ ও জাতিকে। কিন্তু তাঁদের ফুটবল উন্নয়নের জন্য কিছুই দিতে পারেনি, পারছে না জাতি একমাত্র সুন্দর সুন্দর কথা বলা আর আশ্বাস দেওয়া ছাড়া! এর পরও নারীরা যুদ্ধ করে চলেছেন।বাংলাদেশ প্রথম খেলায় র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে তাদের দলগত শক্তিমত্তা এবং সাহসের পরিচয় দিয়েছে। এরপর পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে পরাজিত করেছে। গ্রুপের সর্বশেষ খেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমে গোল করেও বাংলাদেশ নারী দল পরাজিত হয়েছে ৬-১ গোলে। বাংলাদেশ দল শক্তিশালী কোরিয়া দলের বিপক্ষে জয়ী হয়ে মাঠে ছাড়বে—এটি অবশ্য কখনো ভাবা হয়নি। ভাবা হয়েছে নারী দল খেলবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণাত্মক এবং চিত্তাকর্ষক ফুটবল। ফুটবলাররা চেষ্টা করেছেন তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী। সর্বক্ষেত্রে ‘লিমিটেশন’ বলতে একটি কথা আছে! দক্ষিণ কোরিয়ার র‌্যাংকিং হলো ২১ আর বাংলাদেশের ১০৪। শক্তির বিচারে অনেক বেশি পার্থক্য। ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল ‘সুপিরিয়রিটি’ এবং ‘ফিটনেস’ ছিল চোখে পড়ার মতো। ওদের ফুটবল পরিবেশ আর ফুটবল উন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আমাদের খেলোয়াড়দের চিন্তার বাইরে! আমাদের নারী ফুটবলে তো কোনো কাঠামো নেই। সবকিছু বাদ দিয়েই বলছি, ফুটবল প্র্যাকটিস করার জন্য একটি পৃথক মাঠও নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাই কোনো ধরনের তুলনা চলে না। শুধু বলব, আমাদের নারী ফুটবলারদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলা ছিল একটি শিক্ষণীয় বিষয়।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্রিটিশ ফুটবল কোচ পিটার বাটলার যেভাবে গত এক বছরে নারী ফুটবলারদের ‘মোটিভেট’ করে তাঁদের সম্ভাবনা এবং সাফল্যকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন, এটি সত্যি অনন্য। নারী খেলোয়াড়রা ছিলেন নিবেদিত এবং অনুগত। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন কোচ তাঁদের কাছ থেকে কী চাচ্ছেন, কিভাবে চাচ্ছেন—তাঁরা সেটি উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারী ফুটবল আলো ছড়াতে সক্ষম হয়েছে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে।

আমাদের ফুটবল লোক-দেখানো চিন্তা-ভাবনা ছাড়া নারীবিবর্জিতভাবেই চলছে। ফুটবলে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোনো বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেই। বিষয়টি সত্যি অস্বস্তিকর। যে নারী ফুটবলাররা বারবার ফুটবলের মাধ্যমে দেশকে মহিমান্বিত করছেন, খেলার চত্বরে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরাই ন্যূনতম সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটি পুরো জাতির ব্যর্থতা।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com