সরকার ও জনগণের মানসিক সংস্কার ব্যতিরেকে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এইভাবে গ্রহণ করে প্রতিদিন সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব, একটি জনকল্যাণমুখী সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব, একটি জনকল্যাণকর রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য কাজ করব। আমরা এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ইদানিং সবাই একটা কথা শুনি যে, সংস্কার হচ্ছে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মধ্য দিয়ে কাক্সিক্ষত মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। কারণ এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা যারা পরিচালনা করবে তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার এবং এই সমাজের মানুষের, আমাদের, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন তাদের সম্মিলিতভাবে সবার মানসিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা যদি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারটা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই দুইয়ে দুইয়ে চার হবে। তাহলেই আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পেতে পারব।
গতকাল রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আমরা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক সংবিধান পেলাম। সেই গণতান্ত্রিক সংবিধানের মাধ্যমে যে সরকার ব্যবস্থা গঠিত হবে, সেই ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করবে তাদেরকেও মানসিক সংস্কার এবং দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে এবং অপরপক্ষে যারা রাষ্ট্রের জনগণ যারা বেনিফিয়ারি, সরকার যাদের কাছে দায়বদ্ধ, সমাজের কাছে দায়বদ্ধ তাদেরও যদি দৃষ্টি ভঙ্গি না পাল্টায় তাহলে মানবিক রাষ্ট্র হবে কিভাবে?
তিনি বলেন, আমরা জনগণ হিসেবে যদি মনে করি, সব দায়িত্ব সরকারের, সেটা একটা ভুল ধারণা। রবার্ট কেনেডি প্রথমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, আমি তিন জেনারেশনকে কিছু দিতে পারব না, হয়ত থার্ড জেনারেশনকে কিছু দিতে পারি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হবে, সরকার আমাদের জন্য কী করে তা নয়। জনগণ দেশের জন্য কী করবে সেটাও ভাবতে হবে? এটাই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তাহলেই আমরা জনগণ এবং দায়বদ্ধ সরকার জনগণের কাছে এই উভয়ে মিলে একটা আমাদের কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সরকার ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা গতিশীল করতে পারবে। যেই স্বপ্ন ছিলো স্বাধীনতার শহীদদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, ২০২৪ সালের আমাদের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের। যারা রক্তদান করেছেন, জীবন দিয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের। আমরা যাতে সেই সমাজ নির্মাণ করতে পারি। যারা আজকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তাদের সন্তানরা যেন তাদের কাক্সিক্ষতসমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখে যেতে পারে। আমরা সবসময় বলি শত সহস্র শহীদদের রক্তের আকাক্সক্ষা আমাদের পূর্ণ করতে হবে।
ফ্যাসিস্টের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই মন্তব্য করে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তির মন্দিরে সোপান তলে, কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে’, আমাদের অশ্রুজলের চাইতেও বেশি বলতে হবে, আমাদের রক্তধারায় লিখিত আছে এই ফ্যাসিস্টদের পতনের আন্দোলনে শহীদদের কাহিনী। কত নির্মম, কত নিষ্ঠুর আচরণ এদেশের মানুষ একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছ পেয়েছে, সেই বেদনার ইতিহাস, সেই বেদনার ধারাবিবরণী সেই বিবরণীর উপন্যাস ভবিষ্যতে কত লিখিত হবে, অজস্র লিখিত হবে। আমরা তখন বুঝতে পারবো কত নিষ্ঠুর আচরণ স্বীকার করেছিলো এই ভূ-খ-ের মানুষ। তারপরও আমরা দেখি, সেই ফ্যাসিস্টের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই, বেদনা নেই, কোনো পরাজয়ের স্বীকারোক্তি নেই বরং দেখি দাম্ভিকতা। সেটা দেশের মানুষের জন্য আমরা বলব, সেই স্বৈরাচারে দাম্ভিক আচরণ আমরা যতই দেখবো আমাদের মনে হবে যে, ভবিষ্যতে এরকম কোনোভাবে ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি যাতে না হয় সেইভাবে যেন আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা পরিচালিত করি।আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাহ, তথ্য ওপ্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।