মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জাতীয় পার্টি ভাংগন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আরেক দফা ভাঙল জাতীয় পার্টি (জাপা)। জি এম কাদেরের নেতৃত্ব অস্বীকার করে গতকাল শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে দলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে দলের একাংশ। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।গুলশানের ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।নতুন কমিটিতে কাজী ফিরোজ রশিদ সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

‘অপমানিত হচ্ছেন’ দাবি মঞ্জুর : কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমরা অপমানিত হচ্ছি। এবার যেভাবে অপমান করা হচ্ছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই অনির্বাচিত সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে।
যারা এই দেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে, তাদের বাদ দিয়ে দেশ চলছে।’মঞ্জু বলেন, ‘সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কে করছে সংস্কার? কে বাস্তবায়ন করবে? আমরা এরশাদের সময়েও সংস্কার করেছি—স্বাস্থ্যনীতি, শিক্ষানীতি, উপজেলা ব্যবস্থা। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা ভিন্ন রকম।দেশে একটা নির্বাচন হবে কি না, করতেই দেবে কি না—এই দোদুল্যমানতার মধ্যে আছি।’

‘নীতিগত ভুলের’ জন্য ক্ষমা : কাউন্সিলে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে, তাহলে এই কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত প্রায় চার বছর আমি জাতীয় পার্টির মহাসচিব ছিলাম। ভুলভ্রান্তি আমার থাকতে পারে।যেসব ভুলভ্রান্তি ছিল, সেগুলো আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ এ সময় তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।চুন্নু আরো বলেন, ‘আমরা অনেক সময় হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। কেউ কেউ আমাদের স্বৈরাচারের সহযোগী বলেন। কিন্তু জাতীয় পার্টি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির দল। আমরা দেশের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কাউন্সিল

গত ২৮ জুন জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি অনুমতি না মেলায় তা স্থগিত করা হয়। এরপর সিনিয়র নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি দেন জি এম কাদের। অব্যাহতি পাওয়া নেতারা আদালতে গেলে গত ৩১ জুলাই কাদেরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। ওই নিষেধাজ্ঞার পরেই জি এম কাদেরকে পাশ কাটিয়ে গতকাল কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলো।

কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক

এদিকে জি এম কাদেরের নেতৃত্বেই জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।গতকাল কাকরাইলে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় তরুণ পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি বলেন, ‘ইতিহাস বলে, যারা মূলধারার বাইরে গিয়ে জাপাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা নিজে টেকেনি।’শামীম বলেন, ‘দেশে এখন রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের বাইরে রাখা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি খোলনলচে বদলে দেশের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।’তিনি আরো বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা দেখাতে হবে। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশকে বাঁচাতে হবে।’

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি। ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি গঠিত হয়। এরপর কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে; ২০০১ সালে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে ভাঙে জাতীয় পার্টি। এরশাদ মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ আলাদা হয়ে যায়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com