সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

হত্যাকান্ডের ভিডিও করতে মৃত্যু হল তুহিনের

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশনের সামনে দিয়ে কালো বোরকা পরা এক তরুণী হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে নীল জামা পরা এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে পেছন থেকে টেনে ধরেন। ওই ব্যক্তি সামনে গিয়ে তরুণীর গতি রোধ করেন। তিনি তরুণীকে চড়-থাপ্পড় মারেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপরাধ উত্তর) মো. রবিউল ইসলাম দাবি করেন, নীল শার্ট পরা ব্যক্তির নাম বাদশা মিয়া (৩৫)। তাঁর ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় খুন হন তুহিন।গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাদশা মিয়ার বাড়ি মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া বাইপাস এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক শামীম হোসেন বলেন, শাপলা ম্যানশনের সামনে চা পান শেষে তিনি ও তুহিন মসজিদ মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। কোপানোর ওই ঘটনা সাংবাদিক তুহিন তাঁর মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন।

গতকাল রাত পৌনে ১টার দিকে বাসন থানায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. রবিউল হাসান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশ। ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দা, ছুরি ও চাপাতি হাতে যাদের দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন তাদের মধ্যে রয়েছেন।ঘটনার শুরুতে ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম গোলাপি। এ ছাড়া ফুটেজে চাপাতি হাতে (দাড়িওয়ালা এবং মাথায় ক্যাপ) কোপানোর জন্য যাঁকে দৌড়াতে দেখা যায়, সেই ব্যক্তি ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান। ফুটেজে যাঁকে সাদা শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট পরা চাপাতি হাতে দাঁড়ানো দেখা গেছে, গ্রেপ্তার অন্যজন সেই যুবক স্বাধীন। অন্য আসামির নাম আল আমিন। এর মধ্যে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান ও গোলাপী স্বামী-স্ত্রী।

গতকাল পৃথক অভিযানে মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন সালনা, ডিএমপির তুরাগ থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে বাসন থানার ওসি মো. শাহিন মিয়া জানান, এ ঘটনার পর সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তুহিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।তুহিনের মোবাইল ফোন লাপাত্তা : জানা গেছে, সাংবাদিক তুহিনের মোবাইল ফোনটির সন্ধান মিলছে না। তাঁর মোবাইল ফোনটি সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে নাকি খোয়া গেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ। গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) রবিউল ইসলাম জানান, সাংবাদিক তুহিনের মোবাইল ফোনটি একটি হত্যারহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ আলামত। তাই মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মোবাইল ফোনটি পাওয়া গেলে তিনি কী ভিডিও করেছিলেন, কারা হত্যায় জড়িত তা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

জানাজায় বিএনপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন নেতারা : সাংবাদিক তুহিনের জানাজা গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান। জানাজার আগে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, বিএনপি নেতা সুরুজ আহমেদ, গাজী সালাহ উদ্দিন, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান এবং সাংবাদিক নেতারা। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেয়। জানাজার আগে নেতারা অবিলম্বে তুহিন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের কাছে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে।

তুহিনের বাড়ি শোকস্তব্ধ : ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবীর সজল এবং ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি আব্দুল হালিম জানান, প্রিয় সন্তানের মারা যাওয়ার খবর শোনার পর থেকেই গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঘুম নেই নিহত তুহিনের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের চোখে। গতকাল তুহিনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া ভাটিপাড়া গ্রামে গেলে দেখা যায়, সেখানে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। গ্রামের মৌলভীবাড়ির হাসান জামিলের ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তুহিন। গত কোরবানির ঈদে গাজীপুর থেকে সর্বশেষ স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে ফুলবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন। মা-বাবা ও বোনদের সঙ্গে এক দিন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে চলে যান তাঁর কর্মস্থল গাজীপুরে। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে আসতে না পারলেও প্রতিদিন অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবার খোঁজখবর নিতেন। মা-বাবার জন্য নিয়মিত বাজার ও ওষুধ কেনার জন্য টাকা পাঠাতেন। সহযোগিতা করতেন গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষকে। প্রায় আট বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন তুহিন। সকালে তুহিনের লাশ দাফনের জন্য বাড়ির পূর্ব পাশে কবর খনন করা হচ্ছিল। টিনশেড ঘরের বারান্দায় বসে বিলাপ করছিলেন অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা হাসান জামিল (৮২) এবং মা সাবিয়া খাতুন বকুল (৭০)। কাঁদছিলেন বড় বোন সেলিনা খাতুন ও রত্না। হাসান জামিল বলেন, ‘দুই দিন আগে ওষুধ ও বাজার করার জন্য টাকা পাঠিয়েছিল। এ সপ্তাহে বাড়িতে আইসা তার মাকে নিয়া যাওয়ার কথা ছিল, মায়ের চোখের ছানির অপারেশনের লাইগ্যা।’ গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিক তুহিনের লাশ গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রামের শত শত মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে ভিড় করে। এ সময় আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। তুহিনের মা সাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, ‘কী আপরাধ ছিল আমার ছেলের, কেন হত্যা করা হলো?”

সাংবাদিক সৌরভ হত্যাচেষ্টায় গ্রেপ্তার ১ : গাজীপুরে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভের পা ও শরীর থেঁতলে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ফরিদ হোসেন (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে মহানগরের সাহাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সৌরভের মায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী সৌরভের মা আনোয়ারা সুলতানা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গতকাল সকালে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। রাতে রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁর শরীরের কী অবস্থা তা চিকিৎসক জানাবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন। পা থেঁতলে দেওয়ায় তিনি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনোয়ার হোসেনকে গাজীপুর শহরের মার্কাজ সড়কে প্রকাশ্যে মারধর করে কয়েকজন যুবক। পরে তাঁরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন এবং ইট দিয়ে পা ও শরীর থেঁতলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সৌরভ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার পশ্চিম ভালুকা গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। তিনি গাজীপুর শহরের সাহাপাড়ায় পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com