সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেখতে দেখতে একটি বছর পার হলো। দেশের জনগণের কাছে এক অন্ধকার সময়ের অবসান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৫ আগস্ট। ৮ আগস্ট গঠিত হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার। আজ সেই ৮ আগস্ট সরকারের বর্ষপূর্তির দিন। প্রশ্ন হচ্ছে, কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি দিন টিক দিয়ে পালন করলেই কি এর তাৎপর্য পূর্ণ হবে? নাকি এর গভীরতা খুঁজে নিতে হবে অতীত ও বর্তমানের নিরীক্ষায়, জনআকাক্সক্ষা ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার বিশ্লেষণের মাধ্যমে?ফ্যাসিবাদের অবসান হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে উল্লেখ অনাবশ্যক, ফ্যাসিবাদ শুধু একটি শাসনব্যবস্থা নয়। এটি এক ভয়াবহ রাষ্ট্রচিন্তার নাম। যেখানে একক ক্ষমতা, মতপ্রকাশের অবদমন, নাগরিক স্বাধীনতার গলাটিপে ধরা এবং প্রতিরোধকে রাষ্ট্রদ্রোহের নাম দিয়ে দমন করাই নিয়ম। সেই দমনমূলক ব্যবস্থার পতন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক জয়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট পতনের বর্ষপূর্তির প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে হলে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবেÑ এই এক বছরে কী কী বদলেছে, কী কী একই রয়ে গেছে, আর কী কী বদলানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে অনেক আশার আলোকরেখাও রয়েছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে, তরুণ প্রজন্ম আগের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নে সোচ্চার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী মতামত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনীতির নতুন ভাষা, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের আন্দোলন এসবই বোঝায় যে, ফ্যাসিবাদ শুধু পতনেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধও চলমান।ফ্যাসিস্ট পতনের প্রকৃত তাৎপর্য তাই একটিমাত্র দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা যায় না। এটি একদিকে যেমন আনন্দ ও আশার দিক, অন্যদিকে তেমনি আত্মসমালোচনা ও প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনার সময়। আমরা কেবল ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন দেখিনি; আমরা এক মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব ভেঙে বেরিয়ে আসার সাহস দেখিয়েছি। সেই সাহসের পূর্ণতা তখনই আসবে, যখন প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, বিচারিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতা একসাথে মিলিত হবে।আজকে আমাদের নতুন করে ভাবা দরকার ফ্যাসিবাদের পতনের অর্থ শুধু অতীতের অন্ধকার ঘুচানো নয়, বরং ভবিষ্যতের পথ আলোকিত করা, যাতে আগামী প্রজন্ম একথা বলতে পারে, এক সময় আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিলাম, আর তারপর আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করেছিলাম।এক বছর আগে রাষ্ট্রের অন্ধকারতম অধ্যায়টি শেষ হয়েছিল, নতুন সরকার নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। অনেকেই সেই সময়টিকে নতুন সূর্যোদয়ের দিন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। মনে হয়েছিল, জনগণের দীর্ঘশ্বাস প্রথমবারের মতো বাতাসে জোরে উত্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

এই এক বছরে আমাদের অনেক আশা পূরণ হয়েছে, অনেক কিছু পূরণ হয়নি। বলা বাহুল্য, ফ্যাসিবাদের পতন মানেই গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম নয়। অনেকে ভেবেছিলেন, ফ্যাসিস্ট শাসকের বিদায়ের সাথে সাথেই দেশে বাকস্বাধীনতা, সুশাসন ও মানবাধিকারের চর্চা ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পুরনো দানবকে সরিয়ে আমরা হয়তো কিছুটা নিঃশ্বাস নিতে পেরেছি, তবে যে কাঠামোটি তাকে জন্ম দিয়েছিল, তা আজও বহাল তবিয়তে রয়েছে। যেমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন এখনও স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের বড় অংশ এখনো প্রভাবশালীদের পকেটে।দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমূল কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফ্যাসিস্ট আমলে রাষ্ট্রীয় লুটপাট, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতিÑ এসব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও দেখা যাচ্ছে আগের খেলোয়াড়েরা এখনো বহাল। যানজট, জলজট ও চাঁদাবাজি কমেনি।

তবে ভয়-ভীতির সংস্কৃতির কিছুটা চাকা থেমেছে। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছুটা বেশি খোলামেলা আলোচনা করছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছে। মাঠে-ময়দানে প্রতিবাদের ভাষা ফিরেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও বলতে হয়, অনেক জায়গায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি কেবল রাজনৈতিক পোস্টারে আটকে আছে। সাধারণ মানুষের জীবনে এর বাস্তব প্রতিফলন খুবই ক্ষীণ। তবে অনেকের কাছে এটি নিছক হতাশা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার নতুন ভাষা। সুতরাং, বর্ষপূর্তির এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা হওয়া উচিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছিল না শুধুই একজন শাসকের বিরুদ্ধে, ছিল একটি দমনমূলক সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও মনে রাখতে হবে, আমাদের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এই দিনে, তাই উৎসব নয়, প্রয়োজন আত্মসমালোচনার। কারণ, ফ্যাসিবাদ শুধু একটি নাম নয়, এটি একটি পদ্ধতি, একটি মানসিকতা। একে সত্যিকারভাবে পরাজিত করতে হলে নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে, গণমাধ্যমে, শিক্ষায়, রাজনীতিতে এবং ন্যায়বিচারে।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি ছিল, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, অর্থনীতির পুনর্গঠন, সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। আইনশৃঙ্খলা এখনো গণপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রয়াস খুব একটা সফল হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রচেষ্টার অগ্রগতি হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ দু’টি চলমান প্রক্রিয়া। দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে শেষ করা যাবে না। প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনের ট্রেন অতঃপর লাইনে উঠে গেছে। এখন শুধু নির্বাচনই জাতির প্রধান লক্ষ্য।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com