আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রায় ৮ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এই বাহিনীতে থাকবেন পুলিশ, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও। এর পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপর নজরদারি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। শহরাঞ্চলে বাড়তি নজরদারির জন্য মোবাইল টিম এবং কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আগের অভিজ্ঞতা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো গুজব, সহিংসতা কিংবা নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে বিশেষ মনিটরিং টিম।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তারা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররা যেন ভয়হীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সব জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সমন্বয় সভার মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি এলাকায় মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করা না যায়।
অন্যদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। যারা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে এবং সকলে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলেই আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।