বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লে. জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশীদ বীরপ্রতীক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্টহাউসের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সকালে তাঁর সাড়াশব্দ না পেয়ে অনেক ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে বিছানায় তাঁর নিথর দেহ দেখতে পান তাঁর গেস্টহাউসের কর্মকর্তারা।জানা গেছে, চট্টগ্রাম আদালতে ডেসটিনির একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে রবিবার হারুন-অর-রশীদ চট্টগ্রাম আসেন এবং চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্টহাউসে রাত যাপন করেন।তবে তিনি রাতের খাবার বাইরে খেয়েছেন। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম আদালতে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁকে খোঁজ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডাকতে গিয়ে সাড়া পায়নি। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ক্লাব থেকে খবর পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, চট্টগ্রাম থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটা টিম এসেছিল। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাবেক সেনাপ্রধানকে মৃত ঘোষণা করেছে।’ ২০০৬ সালে হারুন-অর-রশীদ বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডেসটিনির আর্থিক অনিয়মের কারণে তাঁকে ২০১২ সালে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জন্ম হয় হারুন-অর-রশীদের। ২৪ ডিসেম্বর ২০০০ সাল থেকে ১৬ জুন ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
মরণোত্তর চক্ষু দান করে গেলেও তা নিতে পারেননি চিকিৎসকরা : চট্টগ্রাম সিএমএইচ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিএমএইচে গিয়েছিল সন্ধানীর টিম। নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করতে হয়।তবে চিকিৎসকরা সোমবার বিকেলে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে তাঁর কর্নিয়া সংগ্রহ করলেও সেটি কার্যকর থাকবে না। তাই সংগ্রহ করা হয়নি।