সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধারা স্থায়ী অক্ষমতা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত বছর ৫ আগস্ট সকালে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন  পোশাককর্মী মো. শামীম। গুলির আঘাতে তাঁর ঊরুর হাড় ভেঙে যায়। এরপর তিনি আর কখনো দাঁড়াতে পারেননি।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলির আঘাতে শামীমের মতো সহস্রাধিক  আহত ব্যক্তির স্থায়ী অক্ষমতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তৈরি হয়েছে।এরা অন্যের সাহায্য ছাড়া স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না। উপার্জনক্ষম এসব ব্যক্তির এখন বড় চিন্তা খেয়েপরে বেঁচে থাকা নিয়ে  শামীম জানান, চিকিৎসকরা বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে পারলেও এখনো তিনি কারো সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারেন না।শামীম মাওনা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগমও ছিলেন ওই কারখানার কর্মী। গত বছর ৫ আগস্ট সকালে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর থেকে দুজনের দিন কাটছে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। শামীমের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আজকে ১১টি মাস বিছানায়। শরীর নাড়াতে পারে না। উনাকে দেখাশোনা করতে গিয়ে আমিও চাকরি করতে পারছি না। আদৌ সুস্থ হতে পারবে কি না—জানি না। ঘরে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি, আমার দুই মেয়ে, তাদের পড়াশোনা, সব শেষ!’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহত ১৩ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে অক্ষম।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর মধ্যে ৪৯৩ জন এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দুই চোখ হারিয়েছেন ৩৯ জন। এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে ২১ জনের। এক হাত ফেলে দিতে হয়েছে সাতজনের। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, অতি গুরুতর আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৩৪। গুরুতর আহত ৮০০। এ ছাড়া মোটামুটি আহত তিন হাজার এবং সামান্য আহত সাত হাজার। এই সংখ্যার হেরফের হতে পারে।এখনো চিকিৎসাধীন শতাধিক আহত : গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত) ১০ জন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ৩২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ২২ জন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে একজন। এ ছাড়া সাভারের সিআরপিতে ১৯ জন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বলছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৭৫ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ১১ জনকে, থাইল্যান্ডে ৫৬ জনকে, তুরস্কে সাতজনকে ও রাশিয়ায় একজনকে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা   চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ২৯ জন। এখনো থাইল্যান্ডে ৩৯ জন ও তুরস্কে সাতজন চিকিৎসার জন্য আছেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত বিদেশে চিকিৎসায় খরচ হয়েছে ৭৮ কোটি ৫২ লাখ ২৬ হাজার ৯১০ টাকা। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করেছে।

গেজেটভুক্ত ৭,৩৬৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ : অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্যোগ ছিল তাদের চিকিৎসা করা। আমরা সারা দেশে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ৭৮ জনকে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, নেপাল, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনেও চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটি চলমান প্রক্রিয়া।’আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সহায়তা করছে। অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের আজীবন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির জন্য স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। গেজেটভুক্ত ১২ হাজার ৪২ জনের মধ্যে সাত হাজার ৩৬৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

সহায়তার তহবিল অর্থসংকট : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯১ শতাংশ শহীদের পরিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আংশিক সহায়তা পেয়েছে ৩৯.৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে সহায়তার তহবিলে অর্থসংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর।তিনি বলেন, ‘আমাদের তহবিলে তেমন টাকা নেই। যে টাকা আছে, তা দিয়ে নতুন যুক্ত হওয়া শহীদ পরিবার ও ৩০ থেকে ৪০ জন আহতকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া সম্ভব। এ জন্য যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও এখনো চিকিৎসাধীন তাদের কয়েকজনকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’কামাল আকবর জানান, প্রধান উপদেষ্টার তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাঁচ কোটি টাকা ও অন্যান্য মিলিয়ে মোট ১১৮ কোটি সহায়তা আসে। এর মধ্যে ১১০ কোটি টাকা দেওয়া শেষ হয়েছে।জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন কমিটিতে আসার পর গত দেড় মাসে কোনো ধাপের কাউকে টাকা দেওয়া শুরু করিনি। আমাদের মোট ২৫০ কোটি টাকা হলে সবাইকে সহায়তার টাকা দিতে পারতাম।’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ পরিবার ৮৩৪টি। গেজেটভুক্ত আহত ১২ হাজার ৪৩ জন। জুলাই ফাউন্ডেশনের ৩০ জুলাই সর্বশেষ তথ্য মতে, এরই মধ্যে প্রথম ধাপে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে ছয় হাজার ১৯৬ জন আহত ও ৭৫৯ জন শহীদ পরিবার।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com