ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে ‘৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট : জুলাই জাগরণ’। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে চার দিনের এই সাংস্কৃতিক উৎসব পরিণত হয়েছে চলমান প্রতিবাদের এক মঞ্চ।গতকাল রবিবার ছিল এই উৎসবের তৃতীয় দিন। সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে নানা আয়োজন।সূচনা হয় কোরআন তিলাওয়াত ও হামদ পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর সাইমুমের শিল্পীরা সংগীত, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল ও রাজপথের স্মৃতি, আর তাঁদের গল্প—যাঁরা হারিয়ে গেছেন ইতিহাসের আঁধারে।গতকালের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বীন কাশেম আরমান, সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা সাদিক কায়েম।শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁরা স্মরণ করেন আন্দোলনের বেদনার মুহূর্ত, তুলে ধরেন গুম-নির্যাতনের অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন পিনাকী ভট্টাচার্য। ‘জুলাই অনিনয়’ নাটকের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনের প্রথম অধিবেশন। তবে সন্ধ্যার আবহ তখনো উজ্জীবিত ছিল আত্মত্যাগ আর প্রতিরোধের বার্তা নিয়ে।বিকেলে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারীরা মঞ্চে উঠে স্মৃতিচারণা করেন। চোখের জলে তাঁদের কণ্ঠে ফিরে আসে সেই আন্দোলনের দিনগুলো।এই উৎসব শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো উদ্যানজুড়ে। বিশেষ আকর্ষণ ‘শহীদ মানচিত্র’ বাংলাদেশের আটটি বিভাগের প্রতীকী উপস্থাপনায় ফুটে উঠেছে বিভিন্ন অঞ্চলের আন্দোলনের দৃশ্য। ‘আয়নাঘর’ নামের এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দর্শনার্থীদের বারবার থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।শিশুদের জন্য রয়েছে ‘কিডস জোন’। সেখানে চিত্রাঙ্কন, গল্পপাঠ, মিনি থিয়েটার ও খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে তারা। আন্দোলননির্ভর গ্রাফিতি প্রদর্শনীও রয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা চিত্রকর্ম একত্রে উপস্থাপিত হয়েছে।