এবার মফস্বল এলাকার কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে, কোথাও বিদ্যুত্ নেই, কোথাও ইন্টারনেট নেই; তখন বিড়ম্বনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে এনবিআর যদি আন্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তা না হলে কর আদায় ব্যাহত হতে পারে।’কর আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কিছুটা সমস্যা হবেই। বিশেষ করে পেমেন্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। টাকা জমা দেওয়ার পর তা সিস্টেমে না দেখালে করদাতা হতাশ হয়ে যাবেন। আবার কারো সাতটি খাতে আয় থাকলে সেগুলো সমন্বয়ের কাজটা অনেক জটিল হয়ে পড়ে। এসব মাথায় রেখে আরো কিছুটা সময় নেওয়া যেত।’এসএমএসি অ্যাডভাইজারি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ। তবে এনবিআরের সার্ভারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যেন একসঙ্গে এক লাখ মানুষ লগ ইন করলেও সিস্টেম ব্লক না হয়। রিয়াল টাইমে সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষ টিম রাখতে হবে। পাশাপাশি করদাতাদের সচেতন করতেও ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনলাইনে রিটার্ন দিলে ডেটা বিশ্লেষণ ও অডিট সহজ হয়, হয়রানিও কমে। তবে যাঁরা অনলাইন ব্যবস্থায় নতুন, তাঁদের সমস্যাও হতে পারে। আগে যেমন মেলা হতো, সে রকম উদ্যোগ এখনো দরকার। শেষ সময়ে যেন সার্ভারে চাপ পড়ে সিস্টেম বন্ধ হয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে কাগুজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার বরাবর সুনির্দিষ্ট যুক্তিসহ আবেদন করে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কমিশনারের অনুমোদনক্রমে কাগুজে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।