পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের করা পৃথক ছয় মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার পৃথক দুই বিশেষ জজ আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। তাঁরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বিচার শুরু হওয়া অন্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক।শেখ পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আসামি শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামি শেখ রেহানা, টিউলিপসহ ১৭ জন, আজমিনা, টিউলিপসহ ১৮ জন, রাদওয়ান, টিউলিপসহ ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তাঁর ছেলে-মেয়ে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ১০ কাঠার প্লট (প্লট নম্বর ০০৯) বরাদ্দ পেয়েছেন। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তাঁর নামে রাজউক প্লটের বরাদ্দপত্র দেয়। সজীব ওয়াজেদ জয় (প্লট নম্বর ০১৫) এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও (প্লট নম্বর ০১৭) ১০ কাঠা করে প্লট পেয়েছেন। জয়ের বরাদ্দপত্র ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া হয় এবং ১০ নভেম্বর মালিকানাসংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। পুতুলের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয় ওই বছরের ২ নভেম্বর। শেখ রেহানাও ১০ কাঠার প্লট (প্লট নম্বর ০১৩) বরাদ্দ পেয়েছেন। তাঁর ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের (প্লট নম্বর ০১১) এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের (প্লট নম্বর ০১৯) নামেও একই পরিমাণের প্লট বরাদ্দ হয়েছে। পরে চলতি বছরের গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক।