চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাপের কামড়ে আলমগীর হোসেন (৪০) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নতুন চর এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে তিনি সাপের কামড়ের শিকার হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আলমগীর কালাপানিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু ড্রাইভারের বড় ছেলে এবং সহেল হোসেনের বড় ভাই। পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্যে, আলমগীর ছিলেন একজন সহজ-সরল, পরিশ্রমী এবং পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ।সাপের কামড়েই মৃত্যুরাতের অন্ধকারে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ আলমগীরকে কামড় দেয়। কামড়ের পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাছুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পথেই তার অবস্থার অবনতি হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কঘটনার পরপরই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাতে মাছ ধরা বা ক্ষেত-খামারে কাজ করার সময় বিষাক্ত সাপের আক্রমণের আশঙ্কা এখন সবার মধ্যে বাড়ছে। স্থানীয়রা রাতের সময় চরাঞ্চলে চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকিসাপের কামড়কে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ছোট বা জাদুটোনা হিসেবে বিবেচনা করে স্থানীয় ওঝার দ্বারস্থ হন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের কামড়ের পর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অ্যান্টিভেনম গ্রহণ করা উচিত। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমেই সাপের বিষ থেকে জীবন রক্ষা সম্ভব।সচেতনতা জরুরিস্বাস্থ্যকর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন, চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় সাপের উপদ্রব কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনও সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।পরিবারের আহাজারিআলমগীরের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। অসুস্থ মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তার ছিল ছোট্ট একটি সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা তারা।