ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাতে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা আইন-২০০৯ সংশোধন করে ভোটার তালিকা অধ্যাদেশ ২০২৫ করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন আর ২ মার্চ নয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে বছরের যেকোনো সময় তফসিলের আগে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইনের এই সংশোধনে ফলে প্রায় ৬০ হাজার তরুণ ভোটারদের ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ সৃষ্টি হল।অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ এর দফা (জ) তে উল্লিখিত ‘জানুয়ারি মাসের পহেলা তারিখ’ শব্দগুলোর পর ‘বা কমিশন কর্তৃক ঘোষিত অন্য কোনো তারিখ’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত হবে।আগের বিধান অনুযায়ী, পহেলা জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়, নির্বাচন এরপর যখনই অনুষ্ঠিত হোক পহেলা জানুয়ারির পরে যারা ১৮ বছর পূর্ণ করেন, তারা আর ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন। ওই নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছিল তাদের নিয়ে। অর্থাৎ মাঝখানের এক বছর যারা ১৮ বছর পূর্ণ করেছিলেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।কিন্তু অধ্যাদেশে বলা হল কমিশন অন্য কোনো তারিখ পর্যন্ত এখন নিতে পারবে। তার অর্থ জানুয়ারির ১ তারিখের পরে কমিশন যে সময় নির্ধারণ করবে সে সময় পর্যন্ত যোগ্য হওয়া নাগরিকদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যাবে।অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত বা তফসিল ঘোষণার আগে ধারা ৩ এর দফা (জ) এর অধীন ঘোষিত সময়কালের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে হালনাগাদ করা হবে।আগের বিধান অনুযায়ী, ২ মার্চের আগে পরে হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যেত না। আইনে সংশোধনের ফলে কমিশন যেকোনো সময় হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।এদিকে অধ্যাদেশ আকারে আইনের সংশোধন হওয়ায় ইসি চাইলে এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় তালিকা থেকে মৃত ভোটার কর্তন করতে পারবে। সংশোধনের আগে এই সুযোগ ছিল না। এক্ষেত্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় মৃত ভোটার কর্তন করা হত।অন্যদিকে অধ্যাদেশের ফলে বিদ্যমান নির্বাচনী এলাকা বা, ক্ষেত্রমত, ভোটার এলাকা থেকে অন্য নির্বাচনী এলাকায় বা, ক্ষেত্রমত, ভোটার এলাকায় আবাসস্থল পরিবর্তন করা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম পূর্বের এলাকার ভোটার তালিকা থেকে কেটে স্থানান্তরিত এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।