সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আহতদের সুচিকিৎসার জন্য যা যা দরকার তাই করা হবে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর উত্তরায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার তা-ই করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুর্মিটোলায় নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম সাগরের ফিউনারেল প্যারেড শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, ‘সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রথমেই বলেছেন, যারা এ ঘটনায় আহত হয়েছে, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আশ্বাস পাচ্ছি ইনশাল্লাহ।আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, আমরা সবকিছুই করব। কারণ আহতদের সুচিকিৎসা এখন সবচেয়ে জরুরি। আহতদের আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা দিয়ে চিকিৎসা করাব, তারা যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।এরই মধ্যে গতকাল (সোমবার) একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করেছি। তারা অতি শিগগিরই তদন্ত করে বের করবে কী ঘটনা ঘটেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ভুলত্রুটি থাকলে ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নেব।’দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, ‘দয়া করে দেশের এই বিপদের সময় সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব কিংবা মিস-ইনফরমেশনে কান দেবেন না।একটি শক্তিশালী বিমানবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অপরিহার্য। দয়া করে গুজব ছড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বল করে দেবেন না। আমাদের কাছে যতজন আহত-নিহতের আপডেট আসছে, আইএসপিআরের মাধমে জানিয়ে দিচ্ছি। এখানে লুকানোর কোনো বিষয় নেই। কার কাছে লুকাব? আপনারা আমাদের দেশের মানুষ, আমরাও এ দেশের মানুষ।দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই, আমরা চেষ্টা করছি এটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে। এখন যদি আমাদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করে, আমাদের কারো ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে দেশের।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আপনাদের সবার মতো আমারও হৃদয় ভেঙে গেছে। তবে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা রিকভার করা হবে আমাদের মূল কাজ। যদিও পারিবারিকভাবে এটা করতে পারব না; তবে বারবার বলছি, আমরা পাশে থাকব, সম্মিলিতভাবে অনেকের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারব ইনশাল্লাহ।’তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) থেকে দেশের এই বিপদের সময় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, অন্য উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিকে দলের নেতৃবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, চিকিৎসকবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থা, সাধারণ ছাত্র-শিক্ষক, সাধারণ জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যখনই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তখনই আমরা বুঝতে পারি, যেকোনো ধরনের বিপদ এলে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি। তা গতকালের উদ্ধারকাজে দেখেছি। অবশ্য সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রথম দিকে গিয়েছিল এবং তারা তাদের বিশেষ উদ্ধারকাজ করেছে।’নিহত পাইলটের বিষয়ে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘যখন বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে একটি খালি জায়গা বা মাঠে নেওয়ার। তার পরও তার চেষ্টা সফল হয়নি। বিমানটি আছড়ে পড়ে বিল্ডিংয়ের ওপর। কিন্তু সে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য বা বিমানটিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য যে মূল্যবান সময় দিয়েছে, তার জন্য বিমান থেকে বের হওয়ার যে পদ্ধতি তা বিলম্বিত হয়। যার জন্য সে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে এবং আমাদের মাঝে নেই। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তার শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’এর আগে তিনি এ ঘটনায় আহত-নিহত সব পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান।এক প্রশ্নের জবাবে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘যুদ্ধবিমান সাধারণত সহজে পুরনো হয় না। প্রতিটি বিমানের একটা লাইফটাইম আছে। এই বিমানগুলোর প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত লাইফ সাইকেল থাকে। এক যুগ দুই যুগ না, ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা এটাকে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছি কি না। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বিমানের ক্ষেত্রে আমরা রক্ষণাবেক্ষণে কোনো কম্প্রোমাইজ করি না। আমরা যে দেশ থেকে বিমান ক্রয় করি, সে দেশ থেকে আমরা রক্ষণাবেক্ষণের সব প্রযুক্তি এবং দরকার হলে যা যা প্রয়োজন হয় সেটাও আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করে নিই।’ প্রযুক্তিগতভাবে এই বিমানগুলো পুরনো হয়েছে, কিন্তু এই বিমান পুরনো না। এখন আমরা নতুন প্রযুক্তির বিমানের জন্য অবশ্যই চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তির বিমান আনব। তার মানে এই না যে ওটাও অ্যাক্সিডেন্ট হবে না। আসল কথা হলো, আমরা এই বিমানগুলো যথাসম্ভব ভালোভাবে মেরামত করি। যা যা মেইনটেন্যান্স প্রয়োজন, সেগুলো করি,’ বলেন তিনি।দুর্ঘটনাবিষয়ক আরেক প্রশ্নের জবাবে বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, ‘তদন্তের আগে কোনো ধারণার কথা বলা ঠিক হবে না। তবে এটা একটা সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান। ইঞ্জিনের অনেক টেকনিক্যাল প্রবলেম হতে পারে। পাখির আঘাত হতে পারে, অন্য কিছু হতে পারে। তদন্ত করতে একটু সময় লাগবে, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’তিনি বলেন, প্লেনের যত ঘণ্টা থাকার কথা, ওই ইঞ্জিনের তত ঘণ্টার এক ঘণ্টাও বেশি আমরা ফ্লাই করি না। এটার যা যা রিপেয়ার করার কথা, সেটা আমরা সম্পূর্ণভাবে করি। কিন্তু বিকল যখন হবে  সেটা বলে কয়ে হয় না। সেটা কখন হবে সেটা আমরা বলতে পারি না।’ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এমন জায়গা খুঁজে বের করলেও পরে আবার ঘনবসতি হয়। এখানে যখন বিমানবন্দর হয়েছিল, আমি যখন প্রথম এখানে ১৯৮৫ সালে ফ্লাই করেছিলাম, তখন ওদিকে কিছুই ছিল না, উত্তরা বলতে কিছু ছিল না। এটার সঙ্গে ঘনবসতির সম্পর্ক করা ঠিক না। আমাদের দেশ ছোট, সব জায়গায় মানুষ। এটা (কুর্মিটোলা) আমাদের মেইন বেইস, সবচেয়ে ইম্পোর্ট্যান্ট জায়গা এটা। ভিআইপিরা এখানে থাকেন, আমাদের স্থাপনা এখানে, পার্লামেন্ট এখানে। একটা প্রটেকশনের ব্যাপার আছে। এখানে একটা স্ট্রং এয়ারবেইস থাকা খুবই দরকার।’সরকারের পাশাপাশি বিমানবাহিনী সব সময় হতাহতদের পাশে থাকবে এবং থাকছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com