সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বিস্মিত হয়। তারা গণমাধ্যমকে বলে, দুর্ঘটনার পর স্কুলের মাঠে একজন প্যারাশুট দিয়ে নামেন। আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক আকারে।আর এ জন্য প্রথমেই কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুপুর ১টার পর বিমান আছড়ে পড়েছিল স্কুলের একটি ভবনের মুখে, সেখানে শিশু ও অভিভাবকরা সাধারণত অপেক্ষা করেন। ভবনে বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যেখানে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি মাধ্যমের পাঠদান চলত। দুর্ঘটনার আগে সেখানে ক্লাস শেষ হয়েছিল।অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস শেষ করে অপেক্ষাও করছিল। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাওসার বলে, ‘একটা ফাইটার প্লেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের জুনিয়র ক্যাম্পাস, যেখানে ক্লাস ফাইভ থেকে এইটের ছাত্ররা পড়াশোনা করে, ঠিক সেইখানে পড়েছে। ওখানে বলতে গেলে সবাই পুড়ে গেছে, সবাই ঝলসে গেছে। আমরা ভেতরে গিয়েছিলাম, আগুনের কারণে কাউকে বের করতে পারিনি।খুব খারাপ অবস্থা।’দুর্ঘটনার সময় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমাইন ক্লাসে ছিল। বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে সে দেখে আগুন জ্বলছে। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদমান তানভীর বলে, ‘আমরা যখন ক্লাসে ছিলাম, তখন বিস্ফোরণের শব্দ হয়। প্রথমে কেউ বুঝতে পারিনি বিষয়টি।হঠাৎ যখন সবাই দৌড়াদৌড়ি, ছোটাছুটি করল তখন বুঝতে পারলাম। ১ নম্বর বিল্ডিংয়ে বিমানের কিছু অংশ হয়তো ব্লাস্ট হয়েছে, সেটা বোঝা গেল। বিল্ডিংয়ের সামনে পড়ছে, যার কারণে পুরো বিল্ডিংয়ে আগুন ধরেছিল। তারপর আমরা বের হয়ে দেখি, কিছুক্ষণ পর আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস থেকে গাড়ি এসেছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনাস্থলের কাছেই ফায়ার সার্ভিস ও আর্মি ক্যাম্প ছিল। ফলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত চলে এসেছিল। আগুন নেভাতে বেশি সময় লাগেনি, কিন্তু ভেতরে অনেক মানুষ ছিল। ছোট বাচ্চারা ছিল। ওদের বের করতে অনেক সময় লাগে। স্কুলের পাশেই লতিফা বেগমের বাসা। এই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তাঁর ভাতিজি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাস শেষে তাঁর ভাতিজি বাসায় ফিরেছিল। অন্য বাচ্চারা কোচিংয়ের জন্য ওই ভবনের সামনে অপেক্ষা করছিল। আর তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, বিমান মাঠের মাঝখানে আছড়ে পড়েছে। তারপর ভবনে গিয়ে ধাক্কা খায়। সেখানেই আগুন ধরে যায়।’ প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ জইমত আলী বলেন, ‘বিমান খুব নিচু দিয়ে উড়ছে, তা দেখে অবাক হই। কয়েক মুহূর্ত যায়। তারপর বিকট শব্দ শুনে বের হই । দেখি, স্কুল থেকে আগুন বের হচ্ছে।’ জইমত বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি, একজন প্যারাশুট নিয়া নামছে। আর বহু বাচ্চা আর তাদের গার্ডিয়ানরা আগুনে পুড়ছে। সবাই ধরাধরি করে তাদের সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের তাপ ছিল সাংঘাতিক। স্কুলের ওই বিল্ডিংটার ভেতরে ঢোকার কোনো উপায় ছিল না।’ মাইলস্টোন স্কুল থেকে সবে বাসায় ফিরেছিল দশম শ্রেণির ছাত্র শান্ত। তাদের বাসা স্কুল থেকে দুই মিনিটের হাঁটা পথ। শান্ত বিকট শব্দ হওয়ার পর ঘরের বারান্দায় গিয়ে দেখে, স্কুল থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সে বলে, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি স্কুলের আগে যেটা হোস্টেল ছিল, পরে সেটা ইংলিশ মিডিয়াম শাখা বানানো হয়েছে, তার ঠিক সামনে একটি বিমান ক্র্যাশ করেছে। দাউদাউ আগুন বের হচ্ছিল।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com