সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

খেলতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে স্মার্ট ক্রিকেট

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস, মানসিক দুর্বলতা, সাহসের অভাব, চাপ, কিছু ক্ষেত্রে সঠিক প্রয়োগে ঘাটতি, অস্থিরতা, আবেগের সঙ্গে মনঃসংযোগের সমন্বয়হীনতা, দলীয় খেলায় দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি মাথায় না রাখা এবং মাঠে, বাইরে ‘ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিস’ ও বিভিন্ন ধরনের অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ক্রিকেটামোদীরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না। ক্রিকেট নিয়ে কথা আর আশ্বাসের শেষ নেই, কিন্তু বাস্তবতায় এর মিল খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হয়। সব সময় এক ধরনের অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা আর আস্থার অভাব। কী যে হবে শেষ পর্যন্ত? ইদানীং আবার দেশে এবং দেশের বাইরে (তিন সংস্করণ—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) সিরিজ চলাকালে হরহামেশাই মিডিয়ায় স্থান পায়, ‘আজ বাঁচা-মরার লড়াই’।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে হেরে যাওয়ার পর ভেঙে না পড়ে মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে সবাই মিলে দলের জন্য অবদান রেখে ম্যাচ পরিকল্পনাকে পেশাদার মানসিকতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করেছেন বলেই পর পর দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয় সম্ভব হয়েছে।

ক্রিকেটের প্রতিটি সংস্করণের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং চাহিদা আছে।চিন্তা-ভাবনার বিষয়টিও পুরোপুরি ভিন্ন। ক্রিকেটাররা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন শ্রীলঙ্কায় দুই ম্যাচের টেস্ট এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে কাছে গিয়েও কেন হাতছাড়া হয়েছে। খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। কখনো ব্যাটাররা ভালো করেছেন, কখনো বোলাররা। লড়াইয়ে এক হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সবাই মিলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘কন্ট্রিবিউট’ করতে না পারায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দল হিসেবে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে।বাংলাদেশ দল এমন একটি সময় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে, যখন দেশের ক্রিকেট একটি ঘটনাবহুল কঠিন সময় পার করছে। মাঠের বাইরে চলছে লাগাতার ‘অক্রিকেটীয় কম্পিটিশন’। এই ‘কম্পিটিশন’—লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার, যা জনস্বার্থে দৃষ্টিকটু ও অগ্রহণযোগ্য। ক্রিকেট ঘিরে নাটক ক্রমেই বড় হচ্ছে। ক্রিকেটের গল্পগুলো এখন অন্যভাবে বাঁক নিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, অক্টোবরে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

কয়েক মাস আগে অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে ক্যারিবিয়ান মাঠে তাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয়। ক্যারিবিয়ানদের নিজ ডেরা থেকে সিরিজ জয় মানে অনেক শক্ত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের স্বভাব এবং চরিত্রে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মিশে আছে। দুনিয়াজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগগুলোতে ক্যারিবিয়ানরা ক্রিকেট আনন্দ বিতরণ করছেন সব সময়। তাঁরা ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ঘরে তুলেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে। এটি অবশ্যই খেলোয়াড়দের অনেক বড় ব্যর্থতা। পরিচয় দায়িত্বজ্ঞানহীনতার। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, এমন হারের কোনো ব্যাখ্যা নেই। একটি ম্যাচে দল খারাপ করতে পারে। কিন্তু পর পর দুই ম্যাচে একটা লজ্জাজনক পরাজয় তো মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ দল যেভাবে খেলেছে এটি দুঃখজনক। প্রথম ম্যাচেও কিন্তু বাংলাদেশ দল ভালো খেলেনি।

এরপর বাংলাদেশ দল পাকিস্তানে গিয়ে ৩-০তে সিরিজ হেরে ‘ওয়াইটওয়াশ’ হয়েছে। পাকিস্তান দল শক্তিশালী, তাদের বিপক্ষে যেভাবে মাঠে লড়া উচিত ছিল, সেভাবে তো লড়তে পারেনি। ধারাবাহিকতার সঙ্গে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ব্যর্থতার অগ্রহণযোগ্য প্রদর্শনী ছিল ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পীড়াদায়ক।

পাকিস্তানের মাটিতে করুণ পরাজয়ের পর ময়নাতদন্তের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভুলগুলো সংশোধন এবং খেলার ‘অ্যাপ্রচে’ পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং টিম অপারেশন বসার সময় পায়নি। মাঠের বাইরে ব্যস্ততা, বিতর্ক সৃষ্টি, একে অপরকে দোষারোপ করার বোঝার নিচে সবকিছু চাপা পড়ে গেছে। ক্রিকেট দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেট নিয়ে এত কথা বলা হয়, কিন্তু গত ২৫ বছরে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। স্বপ্ন দেখানো হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয় না। ২৫ বছর আগে আমাদের ক্রিকেট কোথায় ছিল আর এখন আমরা তিন সংস্করণে কোথায় অবস্থান করছি। টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল ২৫ বছর আগে। সেই ক্রিকেটে আমরা কোথায় পড়ে আছি। দেশে মাত্র দুটি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট আছে। এর মধ্যে এবারও একটি মাঠে গড়াবে না। সময় বের করা সম্ভব হয়নি। বলা হচ্ছে, একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

ভারতের কাছে ক্রিকেট রাজনীতির বিশেষ তাৎপর্য আছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক—আর তাই ক্রিকেট খেলতে যায় না। বাংলাদেশে ভারত দলের আসার কথা ছিল আগামী আগস্ট মাসে। অনেক দিন আগেই এটি নির্ধারণ করা হয়েছে উভয় দেশের সম্মতিতে। বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটি বোঝা গেছে ভারত দল আগস্টে খেলতে আসবে না। এই সফর পিছিয়ে যাবে। এরপর বোর্ড সবকিছু বুঝেও সময় নষ্ট করেছে। এখন এই অল্প সময়ের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন তো সহজ বিষয় নয়। জানা গেছে, তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

আগামী ২৪ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সভা। জানা গেছে, এই সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ‘বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার’ কেউ বাংলাদেশে আসবেন না। তবে তাঁরা ‘অনলাইনে’ যুক্ত হবেন। ভারত ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নেবেন। ভারতের কাছে ক্রিকেট এখন রাজনীতির হাতিয়ার। খেলার চেতনা থেকে রাজনীতি অনেক বড়।

সালমান আগার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড তিন ম্যাচের সিরিজ খেলার জন্য বেশ আগেই ঢাকায় এসেছে। এই স্কোয়াডে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, পেসার হারিস রউফ, অলরাউন্ডার সাদাব খান নেই। এরপর কিন্তু দলটি পুরনো এবং নতুন খেলোয়াড় সমন্বয়ে ভারসাম্যময়। এই দলে ফখর জামান, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাহির জাদা ফারহানের মতো ব্যাটসম্যান আছেন। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই। এই সিরিজে যেটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে, সেটি হলো উভয় দলই খেলোয়াড়দের লক্ষ করবে এবং সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ ও আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় ‘সেট’ করতে চাইবে। লিটন দাসের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কায় যে স্কোয়াডটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে, সেখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, একই স্কোয়াড রেখে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে এশিয়া কাপের বেশ আগেই টিম সেট করে ফেলতে। এতে খেলোয়াড়রা নির্ভার ক্রিকেট খেলতে পারবেন। পাকিস্তান দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় বিপিএলে খেলেছেন। এতে তারা ‘কন্ডিশনের’ সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। কথা একটাই, মিরপুরের উইকেটের আচরণ কেমন হবে? মিরপুর উইকেট কাকে বেশি ভালোবাসবে—ব্যাটার, না বোলারদের। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তানের মাটিতে হারলেও ঢাকায় স্মার্ট ক্রিকেট খেলে জয়ের সান্নিধ্য উপভোগ করা সম্ভব—এই বিশ্বাসে তারা বলীয়ান।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com