পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ লাহোরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বলেন—পাকিস্তান ও বাংলাদেশ “একই গাছের দুটি শাখা”, যাদের শিকড় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে প্রোথিত। তিনি জানান, পাঞ্জাব সরকার শিল্প, বাণিজ্য ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) লাহোরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে (বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি) পুনরায় সক্রিয় ও সম্প্রসারণের পথ নির্ধারণ। কি ঘটেছে?—উভয়পক্ষ অংশীদারিত্ব জোরদারে সমঝোতা পুনর্ব্যক্ত করেছে। কখন?—শুক্রবারের (তারিখ উল্লেখিত দিনের) সাক্ষাৎ। কেন?—দুই অর্থনীতির পরিপূরক শক্তি—বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ক্ষুদ্রঋণ ও নারী অংশগ্রহণের সফলতা এবং পাঞ্জাবের কৃষিপণ্য, চিকিৎসা ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করে বিনিয়োগ ও দক্ষতা বিনিময় ত্বরান্বিত করা।
মরিয়ম নওয়াজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাতের বৈশ্বিক অবস্থান, ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোক্রেডিট) মডেল এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন—পাঞ্জাব শিল্পায়ন ও ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্টে বাংলাদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী। আলোচনায় দুই পক্ষ কৃষি ও শিল্প–উৎপাদন শৃঙ্খলে মূল্য সংযোজন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও পণ্য বৈচিত্র্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করে।
বাংলাদেশ খাবার ডেলিভারিমরিয়ম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাব বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন উন্নতমানের চাল রপ্তানি করেছে (এ দাবি তিনি বৈঠকে পুনরুল্লেখ করেন) এবং ভবিষ্যতে উচ্চমানের ধান/চাল ভ্যারাইটি সরবরাহ অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা আছে। তিনি আরও প্রস্তাব করেন, পাঞ্জাব থেকে বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টস ও অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণ বাংলাদেশে রপ্তানি বাড়ানো যেতে পারে।ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তিনি “পারস্পরিক আস্থার লক্ষণ” হিসেবে স্বাগত জানান। লাহোর ও ঢাকায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠারও সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক ফ্যাসিলিটেশন’ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। আসন্ন ভিশন-২০৩০ “প্রথম নারী” শীর্ষক সম্মেলনে পাঞ্জাবের সক্রিয় অংশগ্রহণের আগ্রহও তিনি প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন তার সামাজিক কল্যাণ ও প্রাদেশিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।