কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিলাম কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন, বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। কাস্টমস আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে জীবজন্তু ও পচনশীল পণ্য যেকোনো সময় বিক্রয়ের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া এনবিআরের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশেও ই-নিলামের মাধ্যমে পচনশীল পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীন নিলামযোগ্য যেসব পণ্য চালানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান কিংবা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশগত বাধা নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
ই-নিলামে তোলার আগে পণ্যের চালানের আইনগত অবস্থা, পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, ইনভেন্টরি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ করতে হবে। পচনশীল পণ্যের দ্রুত অবনতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের নিলাম কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং অযথা বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন করতে হবে।
কোনো পণ্য চালানের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিক্রয় কিংবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটি ই-নিলামে তোলা যাবে না।
আদেশে বলা হয়েছে, পণ্য চালানের লট ও ক্যাটালগ প্রস্তুত করে ই-নিলামের জন্য বিডারদের পরিদর্শন, অংশগ্রহণ, জামানত, বিডিং এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ই-নিলামে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হবে। বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতা নিলামমূল্য, শুল্ক-কর, সরকারি পাওনা ও অন্যান্য আইনগত দায় পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় দলিল দাখিলের পর পণ্য খালাস বা অপসারণ করতে পারবেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত বিডার অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কিংবা নিলাম বাতিল হলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৯৪-এর সঙ্গে পঠিতব্য ধারা ২০৭ ও ২৬৬-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব কাস্টমস নাজমুল হোসেন জানান, পচনশীল পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধি মেনে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই ই-নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা থাকলে এসব পণ্য ই-নিলামে তোলা হবে না।