সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত, গাছতলা-ফুটপাতে পাঠদান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন পর্যটকরা। কিন্তু এই ঐতিহাসিক এলাকার সাগরদাঁড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নেই নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ। কখনও গাছের নিচে, কখনও ফুটপাতে, আবার কখনও অন্যের ভবনের বারান্দায় পলিথিন টাঙিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মূল ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর বিকল্প শ্রেণিকক্ষ বা অস্থায়ী শেডের ব্যবস্থা না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

তীব্র রোদে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। আবার বৃষ্টি নামলে বই-খাতা নিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হচ্ছে অন্যত্র। অনেক সময় বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্লাস। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও দিন দিন কমছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক তাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী দাস বলে, গাছের নিচে বসে ক্লাস করার সময় রোদের তাপে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি এলে বই-খাতা ভিজে যায়। অন্য স্কুলের শিশুরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করলেও তাদের ফুটপাত ও গাছের নিচে বসে ক্লাস করতে হয়। নিরাপদে পড়াশোনার জন্য তারা নতুন ভবনের দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা বলেন, ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর শিশুদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে কখনও গাছের নিচে, কখনও ফুটপাতে বা অন্যের ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির কারণে অনেক শিশু অসুস্থ হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না হলে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, সাগরদাঁড়ীতে বিদ্যালয়টি থাকায় বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। শিশুরাও ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com