ময়মনসিংহের জামালপুরে একই উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আর এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এছাড়াও পরিবহণটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানায়, জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মিনালের বাবার বাড়ি ঘোড়াকান্দা গ্রামে মর্জিনা ও মিনালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের সেখানকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই দিন সকাল ১০টায় ভাটিপাড়া গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। পাশাপাশি সময়ে বাকি তিনজনের মরদেহ দাফন করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহে রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ জামালপুরের সাতজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫), অটোরিকশার চালক জামালপুর সদরের বীর গোবিন্দপুর গ্রামের মো. সুজন আলী (৪৪), জামালপুর সদর উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯) রয়েছেন।
একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তছনছ করে দিয়েছে একটি পরিবারকে। যে বাড়িতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাতির উপস্থিতিতে চলত স্বাভাবিক জীবনযাপন, সেই পরিবারের সদস্যদেরই এখন চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হলো দুই বাড়ির কবরস্থানে। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
চারটি খাটিয়া, চারটি কবর আর অসংখ্য অশ্রুসিক্ত চোখ ভাটিপাড়া গ্রামের এই দৃশ্য যেন এক পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্প। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হারানোর শোক মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও এলাকাবাসী। সড়ক দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তেই থেমে গেছে চারটি জীবন, রেখে গেছে স্বজনদের বুকভরা হাহাকার।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ ফারাজি বলেন, ‘আগে টেলিভিশনে দেখতাম, একই পরিবারের পাঁচ-সাতজন মারা গেছেন। আজ নিজের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটল। বিষয়টি সত্যিই কষ্টের। আমরা পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। আমার বলার ভাষা নেই।’
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন বলেন, ‘প্রথমেই নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। একই পরিবারের চারজনসহ জামালপুরের ছয়জনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কীভাবে রোধ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসব।