সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নড়িয়ায় তীররক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার পদ্মায় বিলীন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের ফাটল ধরা ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ৩০ মিটার নদীতে ধসে পড়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে বাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। ভাঙন থেকে নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষায় ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্তত ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। হুমকিতে রয়েছে সুরেশ্বর মাছের আড়ত, বাজার, লঞ্চঘাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম বেপারী, দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, বুধবার দুপুর থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকার ডান তীররক্ষা বাঁধে ৫০ মিটারজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। পদ্মার প্রবল স্রোতে ফাটলের অংশটি ধীরে ধীরে বড় হলে ঘাটের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় অনেকেই মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফাটল ধরা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ বিকট শব্দে নদীতে ধসে পড়ে। বাঁধ ধসে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা। যে কোনো সময় নদীগর্ভে চলে যেতে পারে সুরেশ্বর মাছের আড়ত, সুরেশ্বর বাজার, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

রুবেল খান নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, বাঁধের এই অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

ব্যবসায়ী মামুন বেপারী বলেন, বাঁধে ফাটল ধরার পর থেকেই আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এরই মধ্যে বড় একটি অংশ নদীতে চলে গেছে। এখন যেভাবে মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। এতে আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

স্থানীয় কুদ্দুস বেপারী ও মিজানুর রহমান বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। তারা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, ফাটল ধরা বাঁধের ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। আমরা এরই মধ্যে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নদীভাঙন থেকে নড়িয়া ও জাজিরার বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার পদ্মার ডান তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com