সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টায় কিছু দল, সতর্ক থাকুন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশে অরাজকতার চেষ্টা করছে কিছু দল। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে। একদফা বলে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া যাবে না। যারা একদফা বলছে, আর যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড আছে? তাদের কি কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? তাদের কি খাল খনন কর্মসূচি আছে?

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, একটি দল নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট দিয়েছে। এই গুপ্ত বাহিনী মানুষের অধিকার নষ্ট করছে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্তরা বলেছে যারা পালিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, তারা তো একসময় একসঙ্গে ছিল। বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে। তাই আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি। কৃষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমরা আছি। যারা হত্যার রাজনীতি করে, তাদের কাছে জনগণের জন্য কিছু নেই। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় এদেশে স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বহু বছর পর আজকে এখানে এসেছি। নানা বাড়ির লোকজন, আমাকে দেখে রাখতে হবে। মা যেহেতু নেই। মা মারা গেছেন, এখন আপনারা আমাকে দেখে রাখবেন। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছি, ফ্যামিলি কার্ড দেব। কৃষক ভাইদের মাঝে কৃষক কার্ড দিয়েছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছি। জনগণের অর্থ অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি। এ এলাকায় বন্যায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি দেশের বন্যা ও কৃষি কাজের জন্য উপকৃত হয়েছে। গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে কষ্ট করতে হয়। তাই উপজেলা পর্যায়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ বেড চালু করেন। পরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ৫০ বেড করেছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ বেড করা হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষের জন্য যে কোনো মূল্যে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে এখানে যারা মেডিকেল কলেজ দাবি করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্য দেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। বক্তব্য দেন কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসক বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলা উদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ প্রমুখ।

ýএর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প সরকার ১৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করবে।

পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, অনেকদিন পর নানাবাড়ি এলাম। এখানে আসার পথে মনে পড়ছিল, সবচেয়ে প্রথম আমি এখানে এসেছিলাম ১৯৮৪ সালে—খুব সম্ভবত। তারপর এলাম ১৯৯১ সালে, আপনাদের নেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নির্বাচনি প্রচারণায়। এখন শুধু নানা বাড়ি বেড়াতে এলে তো হবে না। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। মানুষের জন্য, জনগণের জন্য ও নানা বাড়ির জন্য কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল হিসেবে জনগণের কাজ করছে। সেই জন্য নদী খনন, খাল খনন করা এ দেশের জন্য বেশি প্রয়োজন। এ এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবে। ৩৪ হাজার মেট্টিক টন ধান উৎপাদন বেশি হবে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। আমরা বলেছিলাম, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষি ঋণ মওকুফ করব। সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড পেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের সব কলকারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব কলকারখানা চালু করা হবে। এই পরশুরামে যে ৫০ বেড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়েছে, সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ৫০ বেড করেছেন। এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ বেড করা হবে। আর পরশুরাম হাসপাতাল ১৫০ বেড করা হবে। স্বৈরাচারী সরকারকে এদেশের মানুষ বিদায় করেছে। ওই জনগণ আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এদেশে কিছু কিছু দুষ্টু মানুষ অশান্তি করার চেষ্টা করছে। আমরা তা করতে দেব না। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেন্দ্র করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা ছিল। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। তারা তখন মা-বোনকে কী করেছে, তা মুরব্বিরা দেখেছেন। গুপ্তরা এখনো সেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আপনারা অন্যকে নসিয়ত করছেন, অথচ আপনারা মা-বোনকে কী করছেন সেটা মানুষ দেখছে। নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি, তারা টিকিটের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। প্রিয় মা-বোন ও ভাইয়েরা আপনারা সমর্থন দিয়েছেন বলে আমরা ক্ষমতায় এসেছি।

পরশুরামে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ও পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক প্রমুখ।

কালবেলা

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com