সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দেশে গত তিন বছরে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুহার বেড়েছে ৪০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু হয় ৪২ জনের। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৫৯ জন। অর্থাৎ, তিন বছরে মৃত্যু বেড়েছে ৪০.৪৮ শতাংশ। সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, বছরে আনুমানিক ৬০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের কেউ বেঁচে থাকে না। এই মৃত্যুর কারণ সময়মতো টিকা না পাওয়া। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ জলাতঙ্কের টিকা ও তিন লাখ ডোজ আরআইজি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু মানুষকে টিকা দিলেই জলাতঙ্কের ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কুকুর-বিড়ালের টিকাদান, বেওয়ারিশ প্রাণীর ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা—তিনটি কার্যক্রম একসঙ্গে জোরদার করতে হবে। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জলাতঙ্কে চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছে ৩৫ জন। আর ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। তবে এই সময়ে সারা দেশে কত মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে এমন পরিস্থিতিতে আজ ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘একসঙ্গে থাকলেই আমরা আরো শক্তিশালী’। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা, প্রাণীর টিকাদান, রোগ নজরদারি, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর জলাতঙ্কে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে নিয়মিত টিকা দেওয়া গেলে সংক্রমণের চক্র ভাঙা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, জলাতঙ্কের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণের মাধ্যমে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ : গত তিন বছরে ঢাকার মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত। শিশু ও নারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে হসপাতালটির বহির্বিভাগে ২০২৩ সালে চিকিৎসা নেয় ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় এক লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। অর্থাৎ, তিনি বছরে রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। সর্বশেষ চলতি বছরে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোগী প্রায় এক লাখ সাত হাজার ৫৫৮ জন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাণীর কামড়কে অনেকেই শুরুতে তেমন গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে বিড়ালের আঁচড় বা ছোট ক্ষতকে অনেকে সামান্য আঘাত মনে করেন। কিন্তু জলাতঙ্কের জীবাণু বহনকারী প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকে এই প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এফ এ আসমা খান বলেন, প্রতিদিনের রোগীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত। পোষা ও বেওয়ারিশ—দুই ধরনের বিড়ালের কামড়েই রোগী আসছে। এসব রোগীকে ভর্তি রাখা হয় না। টিকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যারা জলাতঙ্ক আক্রান্ত শুধু তাদের ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে একজন ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জাকিয়া সুলতানা বলেন, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর ক্ষত ও ঝুঁকি বিবেচনা করে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আরআইজি ও টিটেনাসও দিতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণীর কামড়ের পর প্রথম কাজ ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা। এরপর দেরি না করে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাথা, মুখ, ঘাড় বা শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কামড়, গভীর ক্ষত কিংবা রক্তপাত হলে ঝুঁকি বেশি। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। অথচ কামড়ের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা ও আরআইজি নেওয়া গেলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই প্রাণীর কামড়কে ছোট ঘটনা হিসেবে না দেখে প্রতিটি ঘটনাকেই সম্ভাব্য জলাতঙ্কের ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে চার কর্মদিবসের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন।

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এ ছাড়া তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেন। সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবেলা, ন্যায়সংগত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বা অংশগ্রহণ করেন।

’

তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি কেবল বাংলাদেশের কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে আমরা কিভাবে শান্তি দেখতে চাই, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় সভাকক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বেরিয়ে আসার (ওয়াকআউট) মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com