রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালার দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে, এমনকি গোপনে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কমিশন এক হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। নির্বাচনের আগে গুম বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে, তবে পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।’
গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।