‘ইবরাহিম বলল, হে ফেরেশতারা, তোমাদের বিশেষ কাজ কী? তারা বলল, আমাদের এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠানো হয়েছে। তাদের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য মাটির শক্ত ঢেলা, যা সীমা লঙ্ঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে।
‘ইবরাহিম বলল, হে ফেরেশতারা, তোমাদের বিশেষ কাজ কী? তারা বলল, আমাদের এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠানো হয়েছে। তাদের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য মাটির শক্ত ঢেলা, যা সীমা লঙ্ঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে।
আয়াতগুলোতে লুত (আ.)-এর গোত্রকে শাস্তিদানের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
১. ইবরাহিম (আ.) পূর্ব থেকেই অপরাধীদের ব্যাপারে আসমানি শাস্তির আশঙ্কা করছিলেন। এ জন্য তিনি শঙ্কিত হয়ে অতিথিদের আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চান।
২. আয়াতে লুত (আ.)-এর গোত্রের কথা বলা হয়েছে। তারা শিরক করত এবং পৃথিবীতে সর্বপ্রথম তারা সমকামিতার পাপে লিপ্ত হয়েছিল।
৪. পাপীর প্রতি সমর্থন প্রদান ও পক্ষপাতের কারণে লুত (আ.)-এর স্ত্রীও আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হয়েছিল।
৫. শরিয়তে সমকামিতা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, চাই তা পুরুষে পুরুষে হোক বা নারীতে নারীতে হোক। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-৮১০)

কোরআন মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ আসমানি কিতাব। এই কিতাবের একাধিক আয়াতে মহানবী (সা.)-কে সম্বোধন করা হয়েছে। এসব সম্বোধন দ্বারা যেমন শুধু তাঁকেই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে আবার কখনো কখনো তাঁকে সম্বোধন করে উম্মতকে নির্দেশ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোরআনে মহানবী (সা.)-কে করা সম্বোধন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
কোরআনের সম্বোধনের প্রকারগুলো
আল্লামা ইবনুল আরাবি (রহ.) কোরআনের সম্বোধনের বিন্যাস তুলে ধরে বলেন, ‘কোরআনের সম্বোধন এক ধরনের নয়, বরং তা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে তিনটি আমাদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তা হলো :
১. উম্মতের সবাই উদ্দেশ্য : যেসব আয়াতে আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদির সবার উদ্দেশ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)
২. শুধু নবী (সা.) উদ্দেশ্য : যেসব আয়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে খাস হওয়ার ইঙ্গিত থাকে। যেমন ইরশাদ হয়েছে, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করবে, এটা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য।’
(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)
৩. সম্বোধন নবী (সা.)-কে, উদ্দেশ্য সবাই : যেসব আয়াতের বক্তব্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু এর দ্বারা উম্মতের সবাইকে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তুমি কোরআন তিলাওয়াত করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তানের কাছ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৮; আহকামুল কোরআন : ২/৯৯৫)
উল্লিখিত তিন প্রকারের পাশাপাশি আরো কয়েক প্রকারের সম্বোধন পাওয়া যায়। যেমন—
৪. সমগ্র মানবজাতি উদ্দেশ্য : আল্লাহ কোনো কোনো আয়াতে সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো।’
(সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
৫. আহলে কিতাবদের সম্বোধন, উদ্দেশ্য সবাই : অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের সম্বোধন করে তাদের প্রশংসা বা নিন্দা করেছেন। যেন মুমিনরা তা করে অথবা তা থেকে বিরত থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে কিতাবিরা! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করো, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন করো? হে কিতাবিরা! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো এবং সত্য গোপন করো, যখন তোমরা জানো?’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭০-৭১)
নবী (সা.)-কে করা সম্বোধনের বিধান
পবিত্র কোরআনের যেসব আয়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সম্বোধন করা হয়েছে তার বিধান সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, ‘নবী (সা.)-কে সম্বোধন করা মানে তাঁর উম্মতকে সম্বোধন করা, যদি না এমন কোনো দলিল থাকে যাতে বোঝা যায় এই সম্বোধন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বিশেষায়িত।’
(আল ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম : ২/৪০৩)
যে সম্বোধন শুধু নবীর জন্য
কোরআনের যেসব সম্বোধন শুধু মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে বিশেষায়িত তা তিন প্রকার। তা হলো—
১. নির্দিষ্ট হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকা : যেসব আয়াতে সম্বোধন বা বিধান রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বিশেষায়িত হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত থাকে, তা শুধু তাঁর জন্য প্রযোজ্য হবে। যেমন—আল্লাহ বলেছেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করবে, এটা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।’
(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)
আয়াতে ‘এটা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য’ বাক্য থেকে বোঝা যায় বিধানটি মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে বিশেষায়িত।
২. নবুয়তবিষয়ক দায়িত্ব : যে আয়াতে নবুয়ত ও রিসালাত বিষয়ক দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা হয় তা নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে খাস। যেমন আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করো; যদি না করো তবে তুমি তাঁর বার্তা প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬৭)
৩. বিশেষ বিধান : আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বিশেষ কিছু অবকাশ ও বিধান দান করেছিলেন। এসব বিধানসংক্রান্ত আয়াতে নবীজি (সা.)-কে যে সম্বোধন করা হয়, তা শুধু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গেই বিশেষায়িত বলে গণ্য হবে। যেমন—চারের অধিক বিয়ে করার অনুমতি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদের, যাদের মোহর তুমি প্রদান করেছ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫০)
আল্লাহ সবাইকে সিরাতে মুস্তাকিম দান করুন। আমিন।

মহানবী (সা.)-কে ভালোবাসা মুমিনের কর্তব্য। ভালোবাসার কথা শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, বরং আচার-ব্যবহার ও কাজকর্মে এর বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে। একজন মুমিনের কাছে মা-বাবা, সন্তান-সন্ততিসহ আপনজনের চেয়ে তাঁকে বেশি ভালোবাসতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি বলুন, যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আল্লাহর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী ও পরিবার এবং যে সম্পদ তোমরা উপার্জন করেছ, যে ব্যবসা-বাণিজ্যে তোমরা মন্দার আশঙ্কা করছ, যে বাসস্থানকে তোমরা ভালোবাসো, তাহলে তোমরা অপেক্ষা করো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আল্লাহ বিশৃঙ্খল জাতিকে সুপথ দেখান না।’
(সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৪)
উল্লিখিত আয়াতটি ব্যক্তির কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সর্বাধিক ভালোবাসা আবশ্যক হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
যার ভালোবাসায় ঈমানের পূর্ণতা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় ঈমান পূর্ণ হয়, অন্তরে নবীপ্রেম না থাকলে ঈমান পরিপূর্ণ হয় না। আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন নবীজি (সা.) উমর (রা.)-এর হাত ধরে রেখেছিলেন। উমর (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার কাছে সবকিছু থেকে প্রিয়, তবে আমার প্রাণ ছাড়া।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘না, হে উমর। ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় না হই।’ এরপর উমর (রা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, এখন হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, উমর। এবার ঠিক আছে।’ (বুখারি, হাদিস ৬৬৩২)
নবী (সা.)-এর প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা বর্ণনাতীত। বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়। নির্মমভাবে হত্যার সময় খুবাইব বিন আদি (রা.)-এর মুখে মহানবী (সা.)-এর প্রশংসামূলক বাক্য স্মরণীয় ঘটনা। চতুর্থ হিজরিতে রাজি হত্যাকাণ্ডের সময় খুবাইব বিন আদি (রা.) বা জায়েদ বিন দাসিন্নাহ (রা.)-কে বন্দি করা হয়। কুরাইশের কাফিররা তাদের ক্রয় করে হত্যার জন্য নিয়ে যায়। মৃত্যুর আগমুহূর্তে আবু সুফিয়ান জিজ্ঞাসা করে, ‘আল্লাহর শপথ, হে জায়েদ, তুমি কি ভালোবাসো যে মুহাম্মদ এই মুহূর্তে আমাদের মধ্যে তোমার স্থানে থাকবে এবং আমরা তাঁর শিরশ্ছেদ করব?’ তখন ওই সাহাবি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি মোটেও ভালোবাসি না যে মুহাম্মদ আমার এই স্থানে থাকবে এবং তিনি কাঁটাবিদ্ধ হয়ে কষ্ট পাবেন আর আমি পরিবার নিয়ে বসে থাকব।’ তাঁর কথা শুনে আবু সুফিয়ান বলেছিলেন, ‘আমি এমন কোনো মানুষ দেখিনি, যে অন্যকে এমনভাবে ভালোবাসে, যেভাবে মুহাম্মদকে তাঁর সঙ্গীরা ভালোবাসে।’
(সিরাতে ইবনে হিশাম : ৩/১৬০)
মহানবী (সা.)-কে পেয়ে আনসারি নারীর উচ্ছ্ব্বাস
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, উহুদ যুদ্ধের দিন বনু দিনার গোত্রের এক আনসারি নারীর স্বামী ও ভাই শহীদ হন। সবাই ওই নারীকে তাঁদের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছিল। তখন সেই নারী জিজ্ঞাসা করছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কী অবস্থা? সবাই বলছিল, হে অমুকের মা, তিনি ভালো আছেন। ওই নারী বলল, তিনি কোথায়, আমাকে দেখিয়ে দাও। অতঃপর সবাই ইশারা করে দেখিয়ে দেয়। রাসুল (সা.)-কে দেখে সেই নারী বললেন, আপনার পর সব বিপদই তুচ্ছ।
(তারিখে তাবারি : ২/৫৩২)
মহানবী (সা.)-কে সাহাবিদের অনুসরণ
হুদাইবিয়ার বছর উরওয়া বিন মাসউদ সাকাফি মক্কার কুরাইশ প্রতিনিধি হিসেবে মহানবী (সা.)-এর কাছে আলোচনার জন্য আসেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাহাবিদের আচার-ব্যবহার প্রত্যক্ষ করেন। মক্কায় কুরাইশদের কাছে ফেরার পর তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘হে আমার জাতি, আমি কায়সার, কিসরা, নাজ্জাশিসহ অনেক রাজা-বাদশাহর দরবারে গেছি। আল্লাহর শপথ, আমি এমন কোনো রাজা দেখিনি, যাঁকে তাঁর সঙ্গীরা এতটা সম্মান করে, যেমন মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর সঙ্গীরা করে থাকেন। আল্লাহর শপথ, তিনি থুতু ফেললে তা কোনো সাহাবির হাতে পড়ে। অতঃপর তা তাঁদের গায়ে-মুখে মেখে নেন। তিনি তাঁদের আদেশ দিলে তাঁরা তা দ্রুত পালন করেন। তিনি অজু করলে সাহাবিদের মধ্যে তাঁর অজুর পানি নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তিনি কথা বললে সাহাবিরা নিশ্চুপ হয়ে তা শোনেন। এমনকি তাঁর সম্মানে তাঁরা তাঁর চেহারার দিকেও তাকান না। তিনি তোমাদের কাছে ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তোমরা তা মেনে নাও।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৩৩)
রণাঙ্গনে মহানবী (সা.)-এর সুরক্ষা
উহুদ যুদ্ধের ভয়াবহ মুহূর্তে আবু তালহা (রা.) ঢাল হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর থেকে হামলা প্রতিহত করছিলেন। এক পর্যায়ে রাসুল (সা.) উঁকি দিয়ে দেখতে গেলে আবু তালহা (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা-বাবা আপনার জন্য কোরবান হোক, আপনি উঁকি দেবেন না। নতুবা আপনার গায়ে তীর এসে লাগবে। আমার বুক আপনার জন্য উৎসর্গিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮১১)
আমর ইবনুল আস (রা.) মৃত্যুশয্যায় বলেছেন, ‘এই পৃথিবীতে আমার কাছে রাসুল (সা.)-এর চেয়ে বেশি প্রিয় ও মহান কেউ নেই। আমার অন্তরে তাঁর প্রতি সম্মান এত বেশি ছিল যে আমি তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারতাম না। আমাকে তাঁর দৈহিক অবয়বের বর্ণনা দিতে বলা হলে আমি পারব না। কারণ আমি দুই চোখ ভরে তাঁকে দেখতে পারিনি।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯২)

মহানবী (সা.)-এর অন্যতম আদর্শ হলো দুর্বল ও রোগীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা। যেসব কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দয়া পাওয়া যায় তার অন্যতম হলো রোগীর সেবা করা। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে রোগীর খোঁজখবর নিল, সে আল্লাহর রহমতে ডুবে গেল। আর সে যখন বসল, তখন সে তাতে স্থির হয়ে গেল।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫২২)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তার অসুস্থ মুসলিম ভাইয়ের সেবায় নিয়োজিত হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফলবাগানে অবস্থান করতে থাকে।’
(মুসলিম, হাদিস : ৬৪৪৭)
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রোগীর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা মহানবী (সা.)-এর অন্যতম সুন্নাহ। মহানবী (সা.) ছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য ও কোমল হৃদয়ের প্রকাশ সবচেয়ে বেশি দেখা যেত অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত সাহাবিদের সেবা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে। তিনি শুধু রোগীদের দেখতেই যেতেন না, বরং তাদের আরোগ্যের জন্য দোয়া করতেন এবং তাদের কষ্টের সময় মানসিক সাহস জোগাতেন। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করতেন।
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় কাআব ইবনে উজরা (রা.) মারাত্মক শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর মাথায় প্রচুর উকুন হয়েছিল, যা তাঁর চেহারার ওপর গড়িয়ে পড়ত। মহানবী (সা.) তাঁর এই করুণ অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং পরম মমতায় জিজ্ঞাসা করেন, উকুন কি তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে? কাআব ইতিবাচক উত্তর দিলে নবীজি (সা.) তাঁর কষ্ট লাঘবে ইসলামের বিশেষ বিধান অনুযায়ী ফিদয়ার মাধ্যমে মাথা মুণ্ডন করার অনুমতি দেন, যা কাআব (রা.)-এর শারীরিক যন্ত্রণা দূর করতে সহায়ক হয়। (বুখারি, হাদিস : ৪১৯০; সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত জীবন, পৃষ্ঠা : ৪১৫)
একইভাবে সাদ (রা.) হুনাইনের যুদ্ধের সময় মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাসুল (সা.) জিরানাহ থেকে উমরাহর ইহরাম করার পর তাঁকে দেখতে যান। তিনি রাসুল (সা.)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! যে দেশ থেকে আমি হিজরত করেছি, তাতে আমি মৃত্যুর আশঙ্কা করছি। আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন।’ রাসুল (সা.) তাঁর সুস্থতার জন্য তিনবার দোয়া করলেন। এরপর রাসুল (সা.)-এর দোয়ায় তিনি সুস্থ হন এবং আরো ৪৭ বছর হায়াত লাভ করেন। (তাবাকাতুল কুবরা : ৩/১০৭-১০৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৮২)
তিনি অসুস্থ সাহাবিদের খোঁজখবর রাখার ব্যাপারে এতটাই যত্নবান ছিলেন যে খন্দকের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তির নিক্ষিপ্ত তীরে সাদ ইবনু মুআজ (রা.) আঘাতপ্রাপ্ত হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য মসজিদের ভেতর একটি তাঁবু টানান, যেন তিনি কাছ থেকে তাঁকে দেখতে পারেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১০১)
নবীজি (সা.)-এর এই মমত্ববোধ সাহাবিদের মনে গভীর ভরসা জোগাত। তাঁর দোয়া, ভালোবাসা ও যত্নে তাঁরা বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে পেতেন।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—
১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য
রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)
মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।
২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’
(সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)
এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।
৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)
এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)
৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।
৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)
পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।
৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বিন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বিন হলো ইসলাম।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)
অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।
৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)
এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।
৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা
হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)
৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)
এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।
১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’
(সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)
১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’
(বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)
১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি
করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’
(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)
এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।
১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি।
ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।
১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’
(সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)
অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)
এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।