সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জরুরী প্রয়োজন অত্যাবশতীয় ওষুধ সংকট

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো অত্যাবশ্যকীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধপ্রাপ্তি। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।দিন দিন রোগ ও রোগের ধরন পরিবর্তনের সাপেক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সময়োপযোগী হওয়ার কথা, কার্যত তা হচ্ছে না। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, তিন দশক আগের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধনীতিতে ফিরেছে সরকার। কিন্তু ওই তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ আছে মাত্র ৬০টির। সরবরাহ বন্ধ ৫৭টির।এতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরো বেড়েছে।

 

জানা গেছে, যেসব ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণের পেথিডিন, ম্যালেরিয়ার ক্লোরোকুইন ও কুইনাইন, যক্ষ্মার ইথামবিউটল ও আইসোনিয়াজিড, ডায়াবেটিসের গ্লিবেনক্লামাইড, উচ্চ রক্তচাপের নিফেডিপিন ও মেথাইলডোপা, একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক, প্রসবকালীন জরুরি ওষুধ এবং সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম। শুধু তা-ই নয়, ডিপথেরিয়া-পারটুসিস-টিটেনাস, ডিপথেরিয়া-টিটেনাস, হাম, পোলিও, ইয়েলো ফিভার ও মেনিনজোকক্কাল টিকাও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ১৯৯৪ সালের গেজেট অনুযায়ী, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাস্তবে সেই আইন মানা হচ্ছে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘এই বাধ্যবাধকতা অতীতে কখনোই মানা হয়নি। হাই-টেক ওষুধের বাহবা চললেও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনে চরম অবহেলা দৃশ্যমান।’ এই হলো আমাদের ওষুধ খাতের চরম বাস্তবতা। 

খবরে বলা হয়েছে, দেশে অনুমোদিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ৩০১টি।

তবে বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ উৎপাদন করে ১৫০ থেকে ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি ওষুধ বিভিন্ন কম্পানি উৎপাদন করে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের ওষুধশিল্পে আগের মতো দুর্দিন নেই। ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজার এখন প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারের। স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছেন দেশীয় উৎপাদকরা। শুধু তা-ই নয়, আমাদের ওষুধ এখন বিশ্বের ১৩২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তার পরও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এমন সংকট কেন? 

জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই বছর পর পর তালিকাটি হালনাগাদ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৫তম মডেল তালিকায় রয়েছে ৫২৩টি ওষুধ। শিশুদের জন্য পৃথক তালিকায় রয়েছে ৩৭৪টি। বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশ জাতীয় তালিকা তৈরিতে এই মডেল তালিকা অনুসরণ করে। কিন্তু ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন কোনো ওষুধ যুক্ত হয়নি। প্রথম ১৯৯৪ সালে ১১৭টি ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ২০০৮ সালে ২০৯টি ওষুধ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়, যদিও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘রোগ ও চিকিৎসার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা অনিবার্য। কিন্তু কোনো রিভিউ কমিটি বা সময় না নিয়ে আকস্মিকভাবে এটি বাতিল করা গ্রহণযোগ্য নয়।’

আমরাও মনে করি, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সময়োপযোগী করা একান্ত অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া ওষুধ খাতে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধে ঔষধ প্রশাসনের আরো কার্যকর ভূমিকা নেওয়া দরকার। লোকবল বাড়িয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com