গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের রংপুরের দাসপাড়ায় তালাবন্ধ বাড়ির ভিতর থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), কন্যা আগামী (২৩) এবং ছেলে প্রিয়মের (১৩) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ ছাদের উপরে পড়েছিল গণপতি চক্রবর্তীর দেহ৷ ছাদে ওঠার সিঁড়িতে মেলে তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার দেহ৷ তাঁদের দু জনের দেহেই নির্যাতনের চিহ্ন মিলেছে৷ অন্যদিকে বাড়ির একটি ঘরের খাটের নীচ থেকে ১৩ বছরের প্রিয়মের দেহ উদ্ধার হয়৷ গণপতি বাবু এবং ছেলে প্রিয়মের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন পায় পুলিশ৷
তদন্তে নেমে সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাস নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ৷ রংপুরের পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির কাছেই সম্পর্কে খুড়তুতো এই দুই ভাই থাকত৷ পুলিশের দাবি,গত শুক্রবার রাতে গণপতিবাবুর বাড়ির তিন তলার ছাদে উঠে মাদক সেবন করছিল এই দুই ভাই৷ পুলিশের দাবি, ইয়াবা নামে এক ধরনের মাদক সেবন করছিল তারা৷ বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-তে পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শব্দ পেয়ে ছাদে কী হচ্ছে দেখতে যান অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতিবাবু৷ ছাদে গিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে মাদক সেবনে বাধা দেন গণপতিবাবু৷ তখনই তোয়ালে দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রথমে দুই ভাই মিলে গণপতি চক্রবর্তীকে খুন করে বলে অভিযোগ৷
স্বামীর চিৎকার শুনে ছাদে উঠতে যান গণপতিবাবুর স্ত্রী প্রীতিলতা৷ তখন সিঁড়িতেই তাঁকে খুন করে অভিযুক্ত দুই যুবক৷ পুলিশের দাবি, এর পর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গণপতিবাবুর মেয়ে প্রীতিলতাকে খুন করে দু জনে৷ সবশেষে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা প্রিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়৷পুলিশের দাবি, নৃশংস এই হত্যালীলার পর গণপতিবাবুর বাড়ির বাথরুমেই স্নান করে দুই অভিযুক্ত৷ ফ্রিজ থেকে বের করে খেজুর এবং শসার সঙ্গে ফের মাদক সেবন করে তারা৷ এর পর রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তারা৷ পালানোর আগে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে বাড়ির জিনিসপত্রও ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে রাখে দুই অভিযুক্ত৷ যাতে দেখে মনে হয় লুঠ অথবা ডাকাতির উদ্দেশে এসেই পরিবারের সদস্যদের খুন করা হয়েছে৷