সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন অভিনন্দন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে সরাসরি ভোটগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ৩৪৩ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ আর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পথচলা শুরু হলো।গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে পরিচিত। নিজের দল তো বটেই, প্রতিপক্ষ অথবা বিরোধী নেতাদের কাছেও তিনি অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও সজ্জন মানুষ হিসেবে সমাদৃত। দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের পথচলা।প্রায় প্রতিটি নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর চেনা। ছাত্রজীবনে বাম সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, একসময়ের কৃষক দলের নেতা মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনতার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির দুঃসময়ে তিনি শক্ত হাতে দল পরিচালনা করেছেন। দলের মহাসচিব হিসেবেও তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় একজন সংস্কৃতিবান, মিষ্টভাষী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো দূরদর্শী ও অভিজ্ঞ নেতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

 

কালের কণ্ঠের খবরে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরে ভোট দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁদের ভোট দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যরা করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েই হাত মেলাতে চলে যান বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রায় আমরা উভয়ে প্রায় সময় একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার অভিন্ন।’ অনেকের মূল্যায়ন—বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আগে কখনো দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রধান ও অভিভাবক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন আর একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, রাষ্ট্রের অভিভাবক। দল-মত-নির্বিশেষে সবার আস্থার প্রতীক। বিশেষত জাতীয় জীবনে ঐক্য, সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মির্জা ফখরুলের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তি একান্ত অপরিহার্য।

আমরা আশা করছি, নতুন রাষ্ট্রপতির সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তাঁর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দেশের প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরো মজবুত করবে। দেশের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ লাভ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে তাঁর প্রজ্ঞা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আমরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করছি। পরিশেষে আবারও নতুন রাষ্ট্রপতিকে জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com