সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সরকারের ৬ মাস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

গত ছয় মাসের অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে যেখানেই  গেছেন সেখানেই জনগণের ঢল নেমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনের বড় সাফল্য হচ্ছে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে আমাদের সরকার বারবার দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর  প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। সভায় নির্বাচনী  ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করাসহ সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় এ মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবীর রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, জাহেদ উর রহমান, বিশেষ সহকারী এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার, সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা আইন অনুশাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটিবারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি।আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, অনেক সময় সেটা সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কিভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে; কিন্তু তার পরও সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।’

 

তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমরা দেখেছি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয় সংসদ, যেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন, যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের  আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত যে অধ্যাদেশ, সেটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

 

সরকারের ১৮০ দিনে গণমুখী ও বহুমাত্রিক দশ কর্মযজ্ঞ : মতবিনিময়সভায় সরকারের ১৮০ দিনে গণমুখী ও বহুমাত্রিক দশ কর্মযজ্ঞ তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে, অভূতপূর্ব জনসমর্থন, সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের উদ্যোগ, আর্থিক খাতে সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি  এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব।

মাহদী আমিন বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়তো কিছুটা দুরূহ। তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লহ। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, অনুপ্রেরণার উৎস জনগণ এবং এই সরকার প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে  তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি বারবার তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন, স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পরম স্নেহে কোলে তুলে নিচ্ছেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তাঁর অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনাচার। সামগ্রিকভাবে দীর্ঘদিন পর আজ আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যাকে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করে।’

শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে : সভায় জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন আমরা করতে চাই; কিন্তু সেই সংস্কার কমিশনকে যারা সাপোর্ট করবে ওইখানে যদি ভুতটুত থাকে ওইটা ক্লিয়ার না করলে তো ভালো কাজ হবে না। একটু সময় লাগছে, শিগগিরই হবে ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা বলা আছে, সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসেনি। বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং এরই মধ্যে কিছু প্রক্রিয়াও আপনারা দেখেছেন। কিছু কিছু কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের প্রশাসনের আগের সরকারের ধ্বজাবাহী কিছু ব্যক্তি এখনো রয়ে গেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে  ক্লিনজিং অপারেশন করার চেষ্টা করেছি এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়। কিন্তু একই সময়ে আমাদের এই প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, সেখান থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জনপ্রশাসন সংস্কার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটাও আমরা দেখেছি। আমরা শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটা কমিশন করতে যাচ্ছি। সেটা আপনারা শিগগরিই  দেখতে পাবেন।’

গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে : তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অনুভব করেনি। সেই কারণে সাংবাদিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার জন্য তাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কোনো অমিল নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও আমরা প্রায় শেষ করে নিয়ে এসেছি। এখন আমরা ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ড্রাফট তৈরি করবে। তারপর আমরা এটা মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব।  কাজ এগিয়ে চলছে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে রাষ্ট্র সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সম্মান প্রতিষ্ঠা করার কাজ করেছে। এগুলো আমরা আগে দেখিনি, ছিল না। আপনারা দেখেছেন, মিরপুরে যখন শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা ঘটল, সেই শিশু রামিসার ঘরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে মজলুমের ঘরে যখন সরকার প্রধান যান, তখন বুঝতে হবে যে এমন বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করি, যেখানে জনগণের কাছে রাষ্ট্র, সরকার দায়বদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী এবং  প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সমপ্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপরাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com