মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মদিন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অর্জন, সাফল্য কিংবা সংকটের নানা মুহূর্তে ভেসে ওঠে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার পঙিক্ত। বিশেষ করে তাঁর ‘সাবাস, বাংলাদেশ’ কবিতার কথা বলতে হয়।তিনি লিখে গেছেন কালজয়ী উচ্চারণ, ‘সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী/অবাক তাকিয়ে রয়:/জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়’। আজও এসব পঙিক্ত আমাদের সংগ্রামী চেতনায় অনুরণিত। তাঁর কবিতা শুধু পাঠের বিষয় হয়ে থাকেনি, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে হয়ে ওঠে স্লোগান, প্রত্যয় ও প্রতিবাদের ভাষা। আজ শনিবার, ১৫ আগস্ট, গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের শততম জন্মদিন।

কবির শততম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কবিকে স্মরণ করে নানা আয়োজন করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান। এতে কবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা ছাড়াও কবিতা আবৃত্তি, কবিতার সংগীতরূপ ও নৃত্য পরিবেশন করা হবে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে মামাবাড়িতে জন্ম সুকান্তের।তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল তৎকালীন ফরিদপুর জেলার কোটালীপাড়ার উনশিয়া গ্রামে, বর্তমানে এটি গোপালগঞ্জ উপজেলা। বাবা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য বইয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা সুনীতি দেবী। কলকাতার কমলা বিদ্যামন্দিরে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাই স্কুলে পড়েন।ছাত্রজীবনেই সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

 

শৈশবেই প্রকাশ পায় তাঁর সাহিত্যপ্রতিভা। আট-নয় বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে রচনা করেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’। কৈশোরে সম্পাদনা করেন হাতে লেখা পত্রিকা। পরে ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ‘আকাল’ সংকলন সম্পাদনায় ভূমিকা রাখেন। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘দৈনিক স্বাধীনতা’ পত্রিকার ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

সুকান্তের কবিতার প্রধান শক্তি তাঁর জীবনঘনিষ্ঠতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ঔপনিবেশিক শোষণ, দারিদ্র্য ও শ্রেণিবৈষম্যের অভিঘাত তাঁর কবিতায় পেয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও মানবিক ভাষা। তাঁর কাছে কবিতা নিছক সৌন্দর্যচর্চা ছিল না, ছিল মানুষের জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত এক শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। এ জন্য হয়তো ক্ষুধার্ত মানুষের পৃথিবীকে তিনি দেখেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে। লিখেছেন, ‘কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়:/পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’

সুকান্তের কবিতায় শ্রেণিসচেতনতার পাশাপাশি ছিল গভীর মানবিকতা এবং ভবিষ্যতের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। তাঁর উচ্চারণ, ‘চলে যাব, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,/এ-বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি—/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ এ অঙ্গীকারই তাঁকে শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সময়ের কবি না রেখে মানবমুক্তির স্বপ্নের কবিতে পরিণত করেছে।

প্রতিবাদ ও দ্রোহের আগুনও তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতায় নিজেকে একটি ছোট্ট দেশলাই কাঠির সঙ্গে তুলনা করে তিনি লিখেছেন, ‘মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ—/বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস।’ ক্ষুদ্র শক্তির মধ্যেও যে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে, এই প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি যেন সে কথাই বলেছেন।

তারুণ্যের দুরন্ত শক্তিও সুকান্তের কবিতার বড় অনুষঙ্গ। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তাঁর উচ্চারণ, ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ/স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি।’ এ কবিতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম তরুণদের সাহস, আত্মমর্যাদা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সুকান্তের কবিতা তরুণদের সংগ্রামী চেতনাকে উজ্জীবিত করেছে।

সুকান্তের জীবন ছিল মাত্র ২০ বছর ৯ মাসের। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জীবদ্দশায় প্রকাশিত তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’। পরে প্রকাশিত হয় ‘পূর্বাভাস’, ‘ঘুম নেই’, ‘মিঠেকড়া’, ‘অভিযান’, ‘হরতাল’ ও ‘গীতিগুচ্ছ’।

জীবনের মাত্র ছয়-সাত বছর সাহিত্যচর্চা করেছেন তিনি। স্বল্পায়ু তাঁর সাহিত্যিক জীবনের দীপ্তিকে ম্লান করতে পারেনি। সময় যত এগিয়েছে, ক্ষুধা, বৈষম্য, অন্যায়, তারুণ্য ও মানুষের মর্যাদা নিয়ে তাঁর কবিতার উচ্চারণ ততই নতুন অর্থ পেয়েছে। এ জন্য তাঁর কবিতা বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রতিবাদী কণ্ঠের অনিঃশেষ অনুপ্রেরণা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com