ময়মনসিংহের ভালুকায় দালালদের খপ্পরে পড়ে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা। ফলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।দালাল তাড়াতে আনসার নিয়োগ করা হলেও হাসপাতাল চত্বরে অব্যাহত রয়েছে দালালদের বিচরণ। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও মিলছে না সুফল।
গত রবিবার সকাল ৯টা। ৫০ শয্যার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তখনো রোগীদের ভিড় ততটা দেখা যাচ্ছে না।মূল ফটকের ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন দুজন নারী। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত তাঁরা। এর কিছুক্ষণ পর তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন এক যুবক। ফটকে দারোয়ানের কক্ষে বসে মোবাইলে কথা বলছেন দায়িত্বরত একজন আনসার সদস্য মো. মোবারক হোসেন।
সময় গড়িয়ে সকাল ১০টা। হাসপাতালের আউটডোরে এখন রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু তখনো নিজের আসনে পাওয়া গেল না নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর কামরার সামনে সন্তান কোলে দাঁড়ানো এক মা। তিনি বললেন, ‘আমার দেড় বছর বয়সী অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে আসছিলাম আমিনুল স্যারকে দেখানোর জন্য। কিন্তু তিনি এখনো আসেননি।’
এরই মধ্যে হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দালালদের উপস্থিতি বেড়েছে বেশ। ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত এক যুবকের সঙ্গে কথা হয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে। তিনি জানান, মাসিক বেতনভোগী হিসেবে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে কাজ করেন। ওই সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালদের অনেকেই কেটে পড়েন।
মীরা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক মহিউদ্দিন জিলানী জানান, ভালুকা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও সুফল পাননি। এ বিষয়ে গত সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবারও অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, তাঁর জানা মতে বর্তমানে হাসপাতালে দালালের উপস্থিতি নেই। সরকারের দেওয়া ১০ জন আনসার সদস্য বর্তমানে পর্যায়ক্রমে দালাল তাড়ানোসহ ডাক্তার, রোগী ও হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছেন। গত রবিবার বিনানুমতিতে হাসপাতালে অনুপস্থিত ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও ডা. মামুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান এরশাদ আলম সুমনের বিরুদ্ধেও তাঁর কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। এরশাদ আলম সুমন এবং বছরের পর বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ডা. ইসরাক প্লাবনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘এর আগেও মোবাইল কোর্ট করে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবারও নেওয়া হবে।’