সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপির জামিনদার, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে পারবে তারা।

এর আগে একাধিক নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগামী আগস্টে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ-বিষয়ক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ বা তপশিল বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তপশিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে তা ৫ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ আইন সংশোধনে ইসির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও নবায়ন, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন প্রস্তাবগুলো কবে নাগাদ সরকারের কাছে পাঠানো হবে– এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারি প্রস্তাবগুলো পাঠাব। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলেই পাঠিয়ে দেব।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আইনের কিছু সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’

যেসব সংশোধনী আনছে ইসি 
ইসি সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনে সেভাবে নেই। আমরা মনে করি, সব আইনেই এটা যুক্ত করা উচিত। এই কারণে সব আইনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা– এ বিষয়ে কমিশন মনে করে; না, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন। ঋণখেলাপির বিষয়ে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং অন্যটি জামিনদার। যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবে ইসি নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, পাশাপাশি ইউটিলিটি বিলখেলাপি, যেমন– বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিল– এ ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থার কোনো বিলখেলাপি থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। লাভজনক পদে থেকেও নির্বাচন করা যাবে না।
তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানেও এ বিষয়ে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।

এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক
সভায় ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়নের বিষয়টি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমে কী কী তথ্য থাকতে হবে, সে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। নবায়নের ক্ষেত্রে পরিবারের সবার এনআইডির তথ্যও দিতে হবে। এ ছাড়া এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কী কী তথ্য দিতে হবে, সেটাও ঠিক করা হয়। উভয় সেবার ক্ষেত্রেই ইসি আবেদন ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সভায় প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দুই স্তর থেকে এক স্তরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অনলাইন আবেদনে প্রবাসী ভোটাররা তথ্য দেওয়ার পর তদন্ত করা হয়। এর পর বায়োমেট্রিক দিতে হয় তাদের। এখন থেকে তথ্য এবং বায়োমেট্রিক একসঙ্গে নেওয়ার পর তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে ইসি। সভায় এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, এখন আমরা এনআইডি বা ভোটার তালিকার জন্য ১৬ বছর ও তদূর্ধ্বদের তথ্য সংগ্রহ করি। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। সভায় এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায় পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক যেটাই হোক না কেন– একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময় সিদ্ধান্তে আসবে ইসি।

প্রমি নিউজ বিডি

বিভিন্ন সূত্রঃ মিডিয়া থেকে নেয়া আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com