মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশ চায় চীনের পাশে থাকুক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’শীর্ষক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলেছবি: প্রথম আলো

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বাংলাদেশ চায় চীনের মতো একটি শক্তি পাশে থাকুক।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা চাই যে চীনের মতো একটি শক্তি আমাদের পাশে থাকুক। অর্থনৈতিকভাবে থাকুক। চীনের প্রযুক্তি আমাদের লাগবে, চীনের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন হবে।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

আর বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং আগামী ৫০ বছরের সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। গত কয়েক দশকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দেশটি যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে তা আরও সম্প্রসারিত হয়।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক স্বার্থ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। একই সঙ্গে চীনের জন্যও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার ও অংশীদার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলেছবি: প্রথম আলো

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০ কোটির এই দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ রয়েছেন, তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে চীনের প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ভারত, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তাঁর ভাষ্য, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও উন্নয়নের প্রয়োজনেই চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির বড় অংশ অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীন এখন বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে চীনের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) অন্যতম বড় উৎস চীন বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যঘাটতিও চীনের সঙ্গে। বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে চীন সরকারের আন্তরিক আগ্রহ রয়েছে। এ আগ্রহ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন—দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভিত্তি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে অন্যরা নানা ব্যাখ্যা দিতে পারে। কিন্তু চীনের এ আগ্রহ এবং আমাদের প্রয়োজন—এটাই দুই দেশের বন্ধুত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক ইউনিটি পয়েন্ট, পারস্পরিক স্বার্থের জায়গা।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

‘বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা অবস্থানে’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সেরা অবস্থানে আছে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এ সফরে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করেছে।

চীন বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের পথকে সম্মান করে এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ (কমিউনিটি উইথ আ শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফরে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল সই হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের আম চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগ সহযোগিতা সহজ করবে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

প্রমি নিউজ বিডি

বিভিন্ন সূত্রঃ মিডিয়া থেকে নেয়া আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com