শেখ হামাদের মৃত্যুতে রবিবার (১২ জুলাই) থেকে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কাতার। এ সময়ে সরকারি দপ্তর ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
তার আমলে কাতার ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলে। একই সময়ে দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।বর্তমানে উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কাতারের যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত, তার ভিত্তি গড়ে ওঠে শেখ হামাদের শাসনামলেই। ২০২২ সালে কাতার সফলভাবে ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে সিক্ত হন শেখ হামাদ।
এ ছাড়া তার সময়েই ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং পৌরসভা নির্বাচন চালু হয়, যেখানে নারীরা ভোটাধিকার লাভের পাশাপাশি প্রার্থী হওয়ার সুযোগও পান।
২০১৩ সালে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তার ছেলে ও উত্তরসূরি শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে। সে সময় শেখ তামিমের বয়স ছিল ৩৩ বছর।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেন, শেখ হামাদ কাতারকে একটি ‘অসাধারণ রাষ্ট্রে’ পরিণত করেছিলেন।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, তিনি শুধু কাতারেই নয়, সারা বিশ্বে একটি অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি সাধারণ দেশকে গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছেন। তার ছিল অনেক স্বপ্ন। তিনি এলএনজি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিলেন, যা কাতারের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
শেখ হামাদের মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র, এর আমির, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আল্লাহ যেন মরহুম ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি রহম করেন।”
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতার সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শেখ হামাদের দূরদর্শী নেতৃত্ব, কাতারের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও শোক প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই শেখ তামিম বিন হামাদ এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আল্লাহ যেন তার পিতার প্রতি রহম করেন, তাকে চিরশান্তি দান করেন এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।
প্রমি নিউজ বিডি
বিভিন্ন সূত্রঃ মিডিয়া থেকে নেয়া আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ ।