মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

‘গালিভার’ জার্মানির মুখোমুখি ‘লিলিপুট’ কুরাসাও

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

লড়াইটা যেন গালিভার বনাম লিলিপুটের! ইতিহাস-ঐতিহ্য আর শক্তির নিরিখে দুই দলের ব্যবধান আক্ষরিক অর্থেই আকাশ-পাতাল! এক দল ফুটবলের সত্যিকারের পরাশক্তি, যাদের আছে গৌরবোজ্জ্বল এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। বিশ্বমঞ্চে বারবার উড়িয়েছে তারা বিজয় কেতন।

রেকর্ড আটবার ফাইনাল খেলে বিশ্বকাপ তারা ঘরে তুলেছে চারবার। আরেক দল ফুটবলে নতুন রূপকথার গল্প লিখে মহাযজ্ঞ মাতাতে এসেছে প্রথমবার। ক্যারিবীয় সাগরের ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ সেই কুরাসাও আজ রাতে মহাপরাক্রমশালী জার্মানির প্রতিপক্ষ। লড়াইটা তাই গালিভার বনাম লিলিপুটেরই! ডালাসে রাতের আরেক ম্যাচের দুই প্রতিপক্ষের পার্থক্য এমন অসম নয়।
টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডস তিনবার ফাইনাল খেললেও সূর্যোদয়ের দেশ জাপানও একেবারে হেলাফেলা করার দল নয়। ফুটবল মহাযজ্ঞে তারাও এখন মহাযজ্ঞে তারাও এখন নিয়মিত এবং চমকও দেখায় প্রায়ই। তবু বাজিকররা হয়তো বাজি ধরবে কমলা উৎসবে। জাপানিজরা কি পারবে পাশার দান উল্টে দিয়ে বিজয়োল্লাস করতে? 

মাজহারুল ইসলাম সার্বিক চিত্রে হিউস্টনে জার্মানি ও কুরাসাওয়ের ফুটবল লড়াইটা অসমই।

তাই বলে উত্তর আমেরিকার প্রতিপক্ষকে একদম হালকাভাবে নিচ্ছে না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগের দুই আসরের তেতো অভিজ্ঞতার জন্যই হয়তো এতটা সাবধানতা! জার্মান রক্ষণভাগের সেনানী নিকো স্লটারবেক কুরাসাওয়ের ফুটবল সামর্থ্য নিয়ে দারুণ সমীহ করে বলছিলেন, ‘কুরাসাওকে নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে কিছু। ওরা বেশ ভালো একটা দল। ওদের অনেক খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ নিয়েছে নেদারল্যান্ডসে। ওদের কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না।
তবে আমরাই হয়তো ফেভারিট এবং আমরাই জিতব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’ 

পরিষ্কার ফেভারিটের তকমা শরীরে জড়িয়ে মাঠে নামবেন নয়ার-মুসিয়ালা-কিমিচরা। এই রূঢ় বাস্তবটা অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছেন কুরাসাওয়ের ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটও, ‘এই গ্রুপে (গ্রুপ ‘ই’) অবশ্য জার্মানি পরিষ্কার ব্যবধানে ফেভারিট। এখনো তারা ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। আমাদের জন্য এখানে থাকাটাই বিশেষ অনুভূতি। যেসব খেলোয়াড় আপনি টিভিতে দেখেন, যারা বিশ্বের শীর্ষ লীগগুলোতে খেলে, তাদের বিপক্ষে মাঠে নামাটা দারুণ ব্যাপার।’ আন্ডারডগ তকমা মেনে নিলেও নিজেদের দিনে কুরাসাও যেকোনো প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে বলে বিশ্বাস অভিজ্ঞ এই ফুটবল ট্যাকটিশিয়ানের, ‘চমক তো যে কেউ-ই দেখাতে পারে। কুরাসাও কেন নয়? আমরা তেমন চেষ্টাই করব। আমরা জানি, আমরা ফেভারিট নই, কিন্তু পিছিয়ে থাকা দলও চমকে দিতে পারে।’ জার্মানরাও জানে গল্পটা। সে জন্যই তো কুরাসাওকে নিয়ে বেশ সতর্ক কোচ জুলিয়েন নাগেলসম্যানও। বিশ্বকাপের কোনো প্রতিপক্ষই তাঁর চোখে ছোট নয়, ‘প্রতিটি প্রতিপক্ষই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। কুরাসাওকে বিশ্লেষণ করাটা হবে বেশ আকর্ষণীয়। তবে আমরা তাদের ছোট করে দেখার ভুল করব না।’

‘ফুটবল একটা সহজ খেলা। ২২ জন মানুষ ৯০ মিনিট ধরে একটা বলের পেছনে ছোটে এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানিই জেতে’, জার্মান ফুটবল দল নিয়ে এই অমর বাণীটি ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি লিনেকারের। সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির সেই ঐতিহ্যে পড়েছে ভাটার টান। মারাকানায় ২০১৪ সালে সর্বশেষবার বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে ফুটবল মহাযজ্ঞে জার্সি দেখে চিনতে হচ্ছে জার্মানদের। গ্যারি লিনেকারও তাই নিজের অমর বাণীতে এনেছেন খানিকটা সংশোধনী। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর লিনেকার নতুন করে জার্মানিকে নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘ফুটবল একটা সহজ খেলা। ২২ জন মানুষ ৯০ মিনিট ধরে একটা বলের পেছন ছোটে। আর শেষটায় জার্মানি আর সব সময় জেতে না।’ কথাটা এখন আক্ষরিক অর্থেই যেন জার্মান ফুটবলের সঙ্গে প্রযোজ্য। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ২০২২ সালে কাতারেও তাদের অবস্থা সুবিধার ছিল না। আরেকবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের গ্লানি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই জার্মানদের নিজেদের নতুন করে প্রমাণের। নিজেদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার।

লাতিন সৌন্দর্য না থাকলেও জার্মান ফুটবল দর্শনে আছে গাণিতিক নির্ভুলতা, ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলা এবং কখনো হাল ছেড়ে না দেওয়ার অদম্য মানসিকতা। এই দৃঢ়চেতা অজেয় মানসিকতা এখনো যে একেবারে ফুরিয়ে যায়নি, ২০২৬ বিশ্বকাপে সেটাই প্রমাণের দায় যেন মানুয়েল নয়ার, জামাল মুসিয়ালা, জশুয়া কিমিখদের। বিশ্বসেরা ক্লাব মাতানো পরীক্ষিত এই তারকারা কি পারবেন ‘জার্মান যন্ত্র’ আবার সচল করে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে আবারও বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসাতে! রয়টার্স, বিবিসি

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com