মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নারী-শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ‘ডেথ রেফারেন্স ও আপিল’ নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করবেন। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

 

গতকাল রবিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় নিয়ে গতকাল নিজ কার্যালয়ে দুই দফা প্রেস ব্রিফ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। সেখানে রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও বিচারিক স্তর নিয়েও কথা বলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, আপিল বিভাগের উন্মুক্ত আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে বিচারপ্রার্থী ও জনমনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তুলে ধরার পর বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত জানান প্রধান বিচারপতি।

 

বিচারিক আদালত কোনো অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। অনুমোদনের এই প্রক্রিয়াটিকে বলে ডেথ রেফারেন্স। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার নথি ও রায়সহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এ ধরনের বিচারপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে রায় কার্যকরে বিলম্ব, বিশেষ করে এ ধরনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাজে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে, সেসব মামলার কার্যকারিতা (রায় কার্যকর হওয়া) সাধারণত মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পায় না।

’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা সব সময় বলে থাকি। কিন্তু যতক্ষণ না সেই শাস্তি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আমি উন্মুক্ত আদালতে (আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে) মাননীয় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে এটি (আশঙ্কা) এনেছি। আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করেছি, মানুষের যে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা অত্যন্ত যৌক্তিক, এটা (উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা) নিরসনের জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতির উদ্যোগী এবং কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত।’ এ সময় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হকের সমন্বয়ে ওই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার কথা প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন বলে সাংবাদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন, এই বেঞ্চটি শুধু এই জাতীয় (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের) মামলার আপিল, রেফারেন্স শুনানির জন্য ডেডিকেটেড থাকবে। অর্থাৎ বিচারিক আদালত কোনো মামলার রায়, সাজা ঘোষণার পর আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর বিলম্বের যে অভিযোগ রয়েছে, এই বিশেষ বেঞ্চ গঠনের ফলে সেই অভিযোগ থেকে হয়তো আমরা মুক্তি পাব।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের আইনজীবী প্যানেল তৈরি করেছি। ওই কোর্টে (বিশেষ বেঞ্চে) এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তাঁরা কাজ করবেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে (রাষ্ট্রপক্ষ) আশ্বস্ত করতে চাই, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের নিযুক্ত আইন কর্মকর্তারা কোনো মামলায় কোনো রকম অ্যাডজোর্নমেন্ট (বিচারকাজের মুলতবি) চাইবেন না। কোনো অ্যাডজোর্নমেন্ট ছাড়াই এই মামলাগুলো (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা) শুনানির জন্য আমি আমাদের আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি।’

অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাষ্ট্রের যেকোনো অপরাধেরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সঠিক তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া। আদালত এবং প্রসিকিউশন টিমের দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব মামলা প্রস্তুত করে বিচারে নেওয়া। বিচারপতিরও দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব মামলার বিচার সম্পন্ন করা। আপিলের দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব আপিল নিষ্পত্তি করা।’

প্রধান বিচারপতি যে বিশেষ বেঞ্জ গঠন করে দিয়েছেন, সেই বেঞ্চে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যে রায় কার্যকর করা যায় না, বিফিংয়ে সে কথাও মনে করিয়ে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘তবে আমরা যদি সবাই সক্রিয় থাকি, তাহলে এ ক্ষেত্রে (আপিল বিভাগে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি) কোনো অসুবিধা হবে না আশা করি। আমি মনে করি, প্রতিটি অপরাধেরই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যদি আমরা একটা সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। অপরাধীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা এবং শাস্তির মুখোমুখি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করবে না বলে আমার প্রত্যাশা।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com